নুরুন্নাহার চৌধুরী কলি : গুলশানে আগে থেকেই মালিকানাধীন জমির পাশাপাশি আরও জমি যুক্ত করে মোট প্রায় ৪০ কাঠা জমিতে ২৮ তলা নিজস্ব ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি সিটি ব্যাংক। এ প্রকল্পের জন্য রাজউক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে এবং ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদেও সিদ্ধান্তটি অনুমোদিত হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে জমি কেনার ক্ষেত্রে চলতি বাজারমূল্যের তুলনায় বেশি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
সেই হিসাবে বিপুল অর্থ ব্যয়ে জমি কেনা ও ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথা মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে ব্যাংকটি। তাতে বলা হয়, নতুন করে ব্যাংকটি গুলশানে ২০ কাঠা জমি কেনার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার জন্য ব্যয় হবে ৩৪৫ কোটি টাকা।
বর্তমানে সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কর্মকাণ্ড চলছে গুলশানের একটি ভাড়া ভবনে। নিজস্ব জমিতে নতুন করে ভবন নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সেখান থেকে প্রধান কার্যালয় সাময়িকভাবে ভাড়া ভবনে সরিয়ে নেওয়া হয়। সিটি ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংকটির কর্মীর সংখ্যা ৭ হাজার ১০০ জনের বেশি। দেশজুড়ে ব্যাংকটির রয়েছে ১৩৪টি শাখা, ৭০টি উপশাখা।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আগের ২০ কাঠা জমির পার্শ্ববর্তী আরও ২০ কাঠা জমি কিনছে ব্যাংকটি। এই ক্রয়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ কৌশল। অতিরিক্ত ২০ কাঠা জমি ক্রয়ে জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪৫ কোটি টাকা।
ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে গুলশানে ব্যাংকটির ২০ কাঠা জমির ওপর যে ভবন ছিল, সেটি ভেঙে নতুন সুউচ্চ ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজউক থেকে ২৮ তলা সুউচ্চ ভবন নির্মাণের অনুমোদনও এর মধ্যে হয়ে গেছে। এই ২৮ তলা ভবনের মধ্যে ৫ তলা বরাদ্দ থাকবে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য। বাকি ২৩ তলাজুড়ে থাকবে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম।
সেভাবেই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন জমির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ভবনের উচ্চতা ও পরিসর বৃদ্ধির আরও সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন শেয়ার বিজকে বলেন, সিটি ব্যাংক অত্যন্ত স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার মধ্যে থেকেই কাজ করে। এখানে বিন্দুমাত্র অনিয়ম ও দুর্নীতি করার সুযোগ নেই। শুরু থেকে আমরা গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ প্রাধান্য দিয়ে আসছি। এজন্য সিটি ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকের আস্থা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে এ বিষয়ে আবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০ কাঠা জমির মূল্য প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি টাকা। সে হিসাবে প্রতি কাঠা জমির দাম ১৭ কোটি ২৫ লাখ টাকার মতো দাঁড়ায়। এটা বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি।
সর্বশেষ ২০২৪ সালে দেশীয় ব্যাংক হিসেবে হাজার কোটি টাকার মুনাফার ক্লাবে যুক্ত হয় সিটি ব্যাংক। ওই বছর শেষে প্রথমবারের মতো ব্যাংকটির সমন্বিত মুনাফা দাঁড়ায় ১ হাজার ১৪ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে ব্যাংকটির সমন্বিত মুনাফার পরিমাণ ছিল ৬৩৮ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির মুনাফা ৩৭৬ কোটি টাকা বা ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। সিটি ব্যাংক ছাড়াও দেশীয় ব্যাংকের মধ্যে হাজার কোটি টাকার মুনাফার ক্লাবে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। ২০২৪ সালে ব্র্যাক ব্যাংকের সমন্বিত মুনাফা ছিল ১ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে দেশীয় ব্যাংকের মধ্যে মুনাফার দিক থেকে সিটি ব্যাংকের অবস্থান দ্বিতীয়। গতবছরের (২০২৫) সালের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) সিটি ব্যাংকের কর পরবর্তী মুনাফার পরিমাণ ছিল ৭২২ কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, সিটি ব্যাংক দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংক। ১৯৮৩ সালে দেশের তৎকালীন ১২ জন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মিলে ব্যাংকটি গড়ে তোলেন। ১৯৮৬ সালে ব্যাংকটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এক সময় সিটি ব্যাংক ছিল সমস্যাগ্রস্ত একটি ব্যাংক। ধীরে ধীরে এটি সমস্যা কাটিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় লাভজনক ব্যাংকে পরিণত হয়। ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার পর প্রথম নিজস্ব ভবনে প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করে ২০০৯ সালে। গুলশান-২ সংলগ্ন গুলশান অ্যাভিনিউয়ে ২০ কাঠার জমির ওপর আটতলা ভবনে ছিল প্রধান কার্যালয়। কিন্তু সেখানে সব জনবলের জায়গা না হওয়ায় পুরোনো ভবনটি ভেঙে ২৮ তলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এখন আগের সেই ২০ কাঠা জমির পার্শ্ববর্তী আরও ২০ কাঠা জমি কিনছে ব্যাংকটি নিজস্ব ভবন করার জন্য। তাতে মোট ৪০ কাঠা জমির ওপর নির্মিত হবে সিটি ব্যাংকের নিজস্ব কার্যালয়।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post