নিজস্ব প্রতিবেদক : সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে পরিকল্পিত অপপ্রচার চলছে। বেশকিছু স্বার্থান্বেষী মহল টাকা দিয়ে মানুষকে উসকানি দিচ্ছে-এসব অপচেষ্টা টিকবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। গতকাল বৃহস্পতিবার মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন গভর্নর।
সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সব চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবে প্রতি আমানতকারী দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ পাচ্ছেন। চলতি জানুয়ারি মাসের মুনাফা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে উত্তোলন করা যাবে। একই সঙ্গে আমানত হিসাবের মধ্যে আন্তঃহিসাব লেনদেনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর এক লাখ টাকা করে যে কোনো আমানতকারী তার আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির আমানতকারীদের দাবির বিষয়ে গভর্নর বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করেছে। এরপরও কিছু বিষয়ে আমানতকারীদের মধ্যে অস্পষ্টতা দেখা দেওয়ায় তাদের একাংশ লিখিত ও মৌখিকভাবে বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে উপস্থাপন করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে উত্থাপিত বিষয়গুলো সম্পর্কে স্পষ্টীকরণ তুলে ধরেন গভর্নর।
তিনি জানান, ব্যাংক রেজল্যুশন অর্ডিন্যান্স, ২০২৫-এর আওতায় প্রণীত রেজল্যুশন স্কিম অনুযায়ী সকল আমানতকারীর মূল আমানত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে। তবে ব্যাংকের টেকসই কার্যক্রম নিশ্চিত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদে আমানতকারীদের ক্ষতি এড়াতে পর্যায়ক্রমে অর্থ পরিশোধ করা হবে।
রেজল্যুশন স্কিম অনুযায়ী সকল চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবে প্রতি আমানতকারীকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত তাৎক্ষণিক উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মেয়াদি আমানতের (এফডিআর, ডিপিএসসহ) ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির পর একই পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের সুবিধা চালু রয়েছে। অবশিষ্ট আমানতের অর্থ দুই বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হবে।
পুরোনো ও নতুন আমানতকারীদের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য করা হচ্ছে না-উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্কিম কার্যকরের তারিখ থেকে সকল আমানতের ওপর বাজারভিত্তিক হারে সমভাবে মুনাফা প্রদান করা হচ্ছে।
অনলাইন ব্যাংকিং কার্যক্রম প্রসঙ্গে গভর্নর জানান, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও অপারেশনাল সিস্টেম পর্যায়ক্রমে প্রস্তুত করা হচ্ছে। সিস্টেম চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন ট্রান্সফার, এনপিএসবি, ইএফটি, আরটিজিএস, এটিএমসহ অন্যান্য স্বাভাবিক ব্যাংকিং সেবা ধাপে ধাপে চালু হবে।
মুনাফা নির্ধারণ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক ধারাবাহিক লোকসানের সম্মুখীন হওয়ায় শরিয়াহ নীতি অনুযায়ী ওই সময়ে মুনাফা প্রদানের সুযোগ ছিল না। তবে আমানতকারীদের দুরবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ইহসান বা অনুদান হিসেবে ব্যক্তি খাতে মেয়াদি ও স্কিম প্রকৃতির আমানতের ওপর ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা আমানতের মূল টাকায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।
তিনি আরও জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সকল বিদ্যমান ও নতুন আমানতকারীদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক হারে মুনাফা প্রদান করবে। এছাড়া জানুয়ারি মাসের মুনাফা গ্রাহকরা চাইলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে উত্তোলন করতে পারবেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে গভর্নর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার যৌথভাবে আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষা, ব্যাংকের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করছে। গৃহীত রেজল্যুশন স্কিম একটি বাস্তবসম্মত, ইনসাফভিত্তিক ও টেকসই সমাধান, যা দীর্ঘমেয়াদে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করবে। এ ক্ষেত্রে আমানতকারীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
প্রিন্ট করুন





Discussion about this post