নিজস্ব প্রতিবেদক : অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই) পিএলসি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) উল্লেখযোগ্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের লোকসান কাটিয়ে এবার কোম্পানিটি মুনাফা অর্জন করেছে। এ সময়ে এসিআইয়ের মোট আয় বেড়েছে প্রায় ১৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
কোম্পানিটির চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমার্ধে এসিআইয়ের মোট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল ৬ হাজার ৬২০ কোটি টাকা।
এই ছয় মাসে কর পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৩০ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটিকে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার লোকসান গুনতে হয়।
আয় বৃদ্ধির ফলে প্রথমার্ধে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৭৩ পয়সা, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৭ টাকা ৯৯ পয়সা।
২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, এসিআইয়ের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৯০ টাকা ৭০ পয়সা।
এর আগে সদ্যসমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসিআইয়ের পর্ষদ বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা ও বিতরণ করে। ওই বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৭ টাকা ৪০ পয়সা, যা তার আগের অর্থবছরে ছিল ১৮ টাকা ২৫ পয়সা। একই সময়ে অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস ছিল ৯১ টাকা ৬৪ পয়সা।
এছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিনিয়োগকারীরা মোট ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন, যার মধ্যে ২০ শতাংশ ছিল নগদ এবং ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ।
পুঁজিবাজারে ১৯৭৬ সালে তালিকাভুক্ত হওয়া এসিআইয়ের অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৮৭ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির রিজার্ভে বর্তমানে জমা রয়েছে ৫৯১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ারসংখ্যা ৮ কোটি ৭৮ লাখ ৩১ হাজার ৮৪৩টি।
এর মধ্যে ৪৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৩৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে অবশিষ্ট ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ শেয়ার।
উল্লেখ্য, স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে ইম্পিরিয়াল কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (আইসিআই) বাংলাদেশ ম্যানুফ্যাকচারিং নামে একটি কোম্পানির যাত্রা শুরু করে। ১৯৮৭ সালে আনিস উদ দৌলা ইম্পিরিয়াল কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (আইসিআই) বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানটিকে দুই বছরের মধ্যে লাভজনক করে তোলেন তিনি। পাঁচ বছরের মাথায় আইসিআই জানায়, তারা বিশ্বব্যাপী তাদের ছোট ব্যবসা বন্ধ করে দেবে। তখন আনিস উদ দৌলা আইসিআইয়ের বাংলাদেশের ব্যবসা কিনে নেন। আইসিআইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন করে কোম্পানির নাম রাখা হয় এসিআই। তারপর চেয়ারম্যান আনিস উদ দৌলার নেতৃত্বে এসিআই বড় হয়েছে। বর্তমানে তার দুই সন্তানের নেতৃত্বে এসিআই আরও বড় হচ্ছে। এসিআই গ্রুপের ওষুধ, কৃষি, অটোমোবাইল, ভোগ্যপণ্য, সুপার স্টোর ও এভিয়েশনের ব্যবসা আছে। অনেক পণ্যের বাজারেই তারা শীর্ষস্থানীয়। সব মিলিয়ে এসিআইয়ের কোম্পানির সংখ্যা ১৮। তারা যৌথ বিনিয়োগে আছে পাঁচটি কোম্পানিতে।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post