নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশের প্রধান দুই পুঁজিবাজার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই-সিএসই) বাজার মূলধনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহে (১-৫ ফেব্রুয়ারি) সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পাশাপাশি মোট বাজার মূলধন বেড়েছে ৯ হাজার ৫৮৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। যদিও একই সময়ে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।
সপ্তাহ শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৪ হাজার ৪৭৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা বেশি। অন্যদিকে সিএসইর বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৬ হাজার ৫৭৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ৫ হাজার ১১২ কোটি ২৯ লাখ টাকা বেশি।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১.৫৫ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ২৪৩ পয়েন্টে পৌঁছেছে। ডিএসই-৩০ সূচক ০.৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়াহভিত্তিক সূচক ৩.৬৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭২ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে এবং এসএমই সূচক ০.৪১ শতাংশ বেড়ে ৯৩৮ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। তবে লেনদেনে কিছুটা ভাটা লক্ষ্য করা গেছে। আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ২২৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা কম। সপ্তাহজুড়ে ৩৮৮টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৩১টির দর বেড়েছে, ১৪১টির কমেছে এবং ১৭টির দর অপরিবর্তিত ছিল। লেনদেন হয়নি ২৪টি প্রতিষ্ঠানের।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১.৮১ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৭৩১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসই-৩০ সূচক ১.৯৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৩ হাজার ৩৩৩ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। সিএসসিএক্স সূচক ১.৭৬ শতাংশ এবং সিএসআই সূচক ২.৯৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে এসএমই সূচক ০.৬৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮০০ পয়েন্টে নেমেছে।
লেনদেনের দিক থেকে সিএসইতেও নিম্নগতি দেখা গেছে। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা কম। সপ্তাহজুড়ে ২৬৯টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৬০টির দর বেড়েছে, ৮৭টির কমেছে এবং ২২টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
সব মিলিয়ে সূচক ও বাজার মূলধনের উত্থান বিনিয়োগকারীদের আস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে লেনদেনের নিম্নগতি বাজারে সতর্কতার বার্তাও বহন করছে।
বিনিয়োগকারীদের আশা, ১২ ফেব্রুয়ারি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে পুঁজিবাজারবান্ধব সুস্পষ্ট গাইডলাইন থাকতে হবে। বাজারের স্বার্থে তারা কী করতে চান তা জাতির সামনে পরিষ্কার ধারণা দিতে হবে। দুর্বল কোম্পানিগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শুধু মুখে ভালো মানুষের মুখোশ পরে আশ্বাস আর দেশ-বিদেশে রোড শো করলে হবে না। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ, তাদের বিনিয়োগ নিরাপদ ও লাভজনক করবেÑতাদের জয় হোক আগামীর আসন্ন নির্বাচনে। সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা আতিকুর রহমান বলেছিলেন, পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এই বাজারের কল্যাণে সম্ভব যা যা দরকার তারা তা-ই করবেন।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post