নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রীকরণের একমাত্র পথ হচ্ছে পুঁজিবাজার। তিনি বলেন, বিনিয়োগ নির্ভর না হলে অর্থনীতি টেকশই হয় না। গতকাল রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম আয়োজিত, ‘পুঁজিবাজারে নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পথ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, ‘বিনিয়োগের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভোগ নির্ভর কিংবা ঋণনির্ভর অর্থনীতি কখনও টেকসই হতে পারে না। বিনিয়োগনির্ভর না হলে অর্থনীতি টেকসই হয় না। আমরা একটি ঋণনির্ভর সমাজ থেকে মালিকানানির্ভর সমাজে রূপান্তরিত হতে চাই। যেখানে সকল জনগণ মালিক হিসেবে ভূমিকা রাখবে। জনগণের এবং দেশের সকল সেবা সুবিধার মালিক জনগণের নিজের থাকবে। অর্থনৈতিক গণতন্ত্রীকরণের একমাত্র পথ হচ্ছে পুঁজিবাজার।’
তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের অভ্যন্তরীণ রেগুলেটরি ব্যবস্থা খুব খারাপ। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজারের মাঝে থাকা অডিট, ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি, অ্যাডভোকেসির মতো রেগুলেটরগুলো। পুঁজিবাজার ঠিক করতে হলে এসব প্রতিষ্ঠান যদি ঠিকমতো দায়িত্ব পালন না করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে পারলে বাজারে মানুষের আস্থা ফিরে আসবে। বাংলাদেশে ইসলামিক স্টক এক্সচেঞ্জ হোক। মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার মতো করে কিছু চিন্তা করা।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, ‘আমরা খুব অল্প সময়ের মাঝে অনেকগুলো রুলসের সংশোধন এনেছি। ২০০ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করেছি। যার মাঝে ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ পাঠানো হয়েছে ১৬টি এবং ৪টি মামলা চলমান রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বড় কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনার জন্য আমরা একটি আইনের খসড়া প্রস্তুত করেছি; যা প্রয়োগ করতে সরকার এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থাগুলোর সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন। পুঁজিবাজার এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রধান উপাদান ভালো কোম্পানিকে শেয়ার বাজারে আনা। বাংলাদেশে অনেক ভালো কোম্পানি আছে কিন্তু তারা আমাদের পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত নয়।’
সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান বলেন, ‘পুঁজিবাজারে ইনসেনটিভের কথা যদি বলি আমরা এটা অতীতে অনেক দিয়েছি। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘সরকার দেশের সর্বস্তরের জনগণের কথা চিন্তা করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো বিষয়গুলো হাতে নিয়েছে। এসবের জন্য এনবিআরকে রেভিনিউ জেনারেট করতে হবে। এই মুহূর্তে এনবিআরের কাছে বড় বড় ইনসেনটিভগুলো চাওয়ার আগে আপনারা চিন্তাভাবনা করবেন।’
এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশ পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী না করে শিল্প বিপ্লব ঘটাতে পারেনি। তাই পুঁজিবাজার নিয়ে দেশের মানুষ এবং কিছু পলিসি মেকারের নেতিবাচক ধারণা পরিবর্তন করার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ইতোমধ্যে অনেকগুলো সংস্কার এনেছে যা কার্যকরী। রেভিনিউ লিকেজ তৈরি না করে বাজার এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাদের পাশে যতট থাকা যায় এনবিআর থাকবে।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post