নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস আজ রোববার (৫ এপ্রিল) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ—উভয় বাজারেই সূচকের উল্লেখযোগ্য পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার আশঙ্কায় অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রিতে ঝুঁকছেন, যার ফলে বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে সূচকের পতন ত্বরান্বিত হচ্ছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে লেনদেনের শুরুতে সূচকের সামান্য উত্থান দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা পতনে রূপ নিচ্ছে। রোববারও দিনের শুরু থেকেই সূচক নিম্নমুখী ছিল এবং সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই পতন আরও তীব্র হয়। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত পতনধারা অব্যাহত থাকে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, দিন শেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০৭.৪৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫,১১২.২৭ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৮.৪৭ পয়েন্ট কমে ১,০৪১.১০ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ৩৫.০২ পয়েন্ট কমে ১,৯৪৫.৩৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৫টির, কমেছে ৩৫৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টির। মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫১১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৬২৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা থেকে কম।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এ সিএসসিএক্স সূচক ১২৮.১৮ পয়েন্ট কমে ৮,৮৫৪.৪৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২২৮.৪০ পয়েন্ট কমে ১৪,৪৭৩.০৯ পয়েন্টে নেমেছে। এছাড়া শরিয়াহ সূচক ৮.৫৭ পয়েন্ট কমে ৮৮৬.৫৩ পয়েন্টে এবং সিএসই ৩০ সূচক ২৫৩.৯৫ পয়েন্ট কমে ১২,৬০২.৭০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
সিএসইতে মোট ১৯০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩৩টির, কমেছে ১৪৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৯টির। দিন শেষে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৯ কোটি ৭ লাখ টাকা থেকে বেশি।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক মো. আল-আমিন বলেন, “ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ফলে হঠাৎ করে শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়ে যাওয়ায় সূচকে বড় পতন দেখা দিয়েছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা কাটাতে না পারলে পুঁজিবাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post