নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারে চার টাকা বাড়িয়ে ১৯৫ টাকা থেকে ১৯৯ টাকা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
গতকাল বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভোজ্যতেলের বাজারমূল্য নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বোতলজাত তেলের পাশাপাশি খোলা তেলের লিটারে ৪ টাকা বৃদ্ধি করে ১৭৫ টাকা থেকে ১৭৯ টাকায় বিক্রি হবে।
বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সারা বিশ্বেই পণ্যের উৎসমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি আমাদের ভোক্তারা বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি দেখবেন। এতে বাজারের সরবরাহ পরিস্থিতি আগের চেয়ে স্বাভাবিক হবে।
দেশের শীর্ষ ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আপনারা (সাংবাদিকরা) এটা নিয়ে অনেকদিন থেকেই লেখালেখি করছেন, জানতে চাচ্ছেন এবং সরবরাহ একটু বিঘ্নিত হচ্ছে বা সাপ্লাই চেইনটা একটু বিঘ্নিত হয়েছে। এটা সরকার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমাদের কঠোর মনিটর করছে, এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। তো আপনারা বিষয়টা জানেন গত সরকারের আমল থেকে, গত অক্টোবর-নভেম্বর থেকে আমরা এই সমন্বয়ের কথাটা বলে আসছি। গত ছয় মাস থেকে এটা আসলে অনেক লং ডিলে।’
তিনি বলেন, ‘এখানে অ্যাডজাস্টমেন্টের ন্যায্যতা অনেক আগে থেকেই ছিল। মন্ত্রীও চেষ্টা করছেন। সরকারপ্রধানও এ ব্যাপারে কনসার্নÑতিনি যেটা আমাদের বলছেন, প্রধানমন্ত্রীও এ ব্যাপারে খুব কনসার্ন। তো যার জন্য আমাদের এই বিষয়ে কিছু বলার নেই। এটা যেটা (দাম বাড়ানো) হয়েছে অত্যন্ত মিনিমাম, কিন্তু আমাদের এটা অ্যাডজাস্টমেন্টটা পুরোপুরি হয়নি। তারপরেও মন্ত্রী যেখানে বলেছেন আমরা সেই জিনিসটাই মেনে নিচ্ছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে মেঘনা গ্রুপের কর্ণধার মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা বলছি সমন্বয়টা ঠিক না। আমাদের বিশ্ববাজারের সঙ্গে যে সমন্বয় ঈদের পরে সেটাকে সম্পূর্ণভাবে সঠিক না করে দিলে সরবরাহ বাড়বে না ভাই। সুতরাং এখানে লাভের কথা তো আসছে না। আমাদের লস হয় ১০ টাকা, এখন সরকার ৫ টাকা বাড়িয়ে দিল। আপনি তো এটাই ধরে নেবেন।’
এ ব্যবসায়ী আরও বলেন, ‘আজ বাণিজ্যমন্ত্রী যেটা বলেছেন আমাদের জন্য এটা হুকুম, আমরা এ দাম ঈদ পর্যন্ত চালিয়ে নেব ইনশাআল্লাহ। এখন এ ব্যাপারে আর আমাদের বলার কিছু নেই। ইনশাআল্লাহ ঈদের পরে সরকার নিশ্চয়ই এই জিনিসটা ভেবে দেখবেন এবং এই মূল্য সমন্বয়টা। কারণ আজকের পৃথিবী সব ওপেন। আমরা দেখতে পাচ্ছি কোথায় কী দাম, তাতে ডিউটি যোগ হবে, ভ্যালুয়েশন কী হচ্ছে, প্রসেস লস কী হচ্ছেÑএটা সবকিছু অত্যন্ত খোলাখুলি। এখানে কোনো কিছু হাইড অ্যান্ড সিক করার কিছু নাই। নিশ্চয়ই এই জিনিসটা তারা বিচার করবেন।’
সরবরাহ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না। আমরা তো উল্লেখ করছি যে সামনে ঈদ আসছে। আমরা মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া থেকে পাম অয়েলটা দ্রুত নিয়ে আসব। আর সয়াবিনও অনেকেরই বুকিং আছে, বাকিটাও এখন বুকিং বাড়বে। হয়তো সয়াবিন এখন বুকিং দিয়ে সেটা ঈদের আগে ধরতে পারব না। এরই মধ্যে আমাদের যে বুকিংগুলো আছে আশা করি সেখানে সমস্যা হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এন্টারপ্রেনার অল্প কয়েকজন, এরা যদি নিঃশেষ হয়ে যান আর মন্ত্রী আরেকটা কথা উল্লেখ করছেন যে এটা সবার জন্য উš§ুক্ত। এটা যে কেউ আনতে পারে। বাংলাদেশে ৭০টা মিল ছিল, এখন ৫-৬টা চলছে কেন? এখন আপনারা যে কথাগুলো বলছেন এগুলো প্রশ্ন আপনারা নিজেরাই খুঁজে বের করেন। এতই যদি লাভ থাকত তাহলে অনেকগুলো ফ্যাক্টরি বন্ধ, অনেকগুলো এখনও বেকার বসে আছে।’
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post