মীর আনিস: দার্শনিকেরা বলেন, ভালো ভাবনায় মন ভালো থাকে। আর ভালো মনের লোকটি ভালো কথা বলেন। ভালো কাজ করেন। তার আচরণ-অভ্যাসও হয় সুন্দর মার্জিত শুদ্ধ। চূড়ান্তে এটাই তাকে দেয় শান্তি আর উদ্যম-আশাবাদ। দেয় প্রত্যাশিত সাফল্য ও সমৃদ্ধি। ব্যক্তির ক্ষেত্রে যেমন, সমষ্টি এমনকি জাতির বেলায়ও তা সত্যি।
ভালো ভাবি—নিজেকে নিয়ে,অন্যকে নিয়ে, চারপাশকে নিয়ে এবং অবশ্যই নিজের দেশ ও জাতিকে নিয়ে মনে রাখতে হবে দেশ আমার আপনার আমাদের সবার।সম্মিলিত ভালো ভাবনায় চলুন জয় করি সমস্ত নেতিবাচকতা, দুর্ভাবনা, শঙ্কা। রচনা করিকাঙ্খিত মানবিক মহাসমাজের ভিত। গড়ে তুলি এক মমতাময় বাংলাদেশ। স্বাভাবিকভাবেই শুদ্ধাচারী জাতি নির্মাণে শুদ্ধাচারের চর্চা শুরু হতে হবে পরিবার থেকে। কারণ ব্যক্তির শুদ্ধাচার বা ভালো আচরণ চর্চার লালনভূমি তার পরিবার। পরিবারে শুদ্ধাচারের চর্চা শুরু হলে তা ছড়িয়ে পড়বে চারপাশে, সমাজে। তার প্রভাব পড়বে জাতীয় জীবনে। ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজ শুদ্ধাচারী হলেই দুর্নীতি ও অনাচারমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে উঠবে। সম্পদের সুষম বণ্টন হবে। সাধারণ মানুষ ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অগ্রগতি থেকে লাভবান হবে।
অনেক সময় তীব্র আবেগ ও ভালবাসায় আমরা দেশ নিয়ে গর্ব করি। আবার সেই আমরাই প্রতিদিন কত অবলীলায় অপরিচ্ছন্ন করে তুলছি এই জন্মভূমিকে। প্রকৃতির যত্নে গড়ে ওঠা জল-স্থল দিন দিন পরিণত হচ্ছে আবর্জনার ভাগাড়ে। শুধু ভাবমূর্তি আর সৌন্দর্যই নয়, অপরিচ্ছন্নতার সাথে সাথে ব্যাহত হচ্ছে দেশবাসীর সার্বিক সুস্থতাও। চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক গবেষণা ও তথ্য-উপাত্তই বলছে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সাথে রয়েছে আমাদের শারীরিক-মানসিক সুস্বাস্থ্যের সরাসরি সম্পর্ক। তাই আজ আমাদের তরুণদের শিখাতে হবে তাদের শারিরীক, মানসিক, আত্বিক, সামাজিক তথা সম্পূর্ণ সুস্থ ও দখ্য ভালো মানুষ হতে হলে দেহ মনের আবর্জনা মুক্ত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক আবর্জনাও পরিস্কার করতে হবে।
তরুণদের বলতে হবে আতঙ্কিত নয়, ইতিবাচক থাকুন। একটি সমস্যার পরিণতি সমাধান নাকি সংকটের দিকে মোড় নেবে, তা নির্ভর করে আপনার দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। দৃষ্টিভঙ্গি যদি হয় ইতিবাচক, তাহলে সমাধানের পথ একটা না একটা বেরিয়ে আসে। কিন্তু ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি যদি হয় নেতিবাচক, তখন ঘটে উল্টোটা। পুরো পরিস্থিতি হয়ে ওঠে সংকটাপন্ন, আরো জটিল। দৃষ্টিভঙ্গি, নিয়ত বা প্রোগ্রাম মনকে নিয়ন্ত্রিণ করে মস্তিষ্ককে পরিচালিত করে। মস্তিষ্কের কাজের ফলাফলও নিরূপিত হয় দৃষ্টিভঙ্গি বা প্রোগ্রাম দ্বারা। আমাদের অধিকাংশের চিন্তা-জগতের শতকরা ৭০-৮০ ভাগই দখল করে রাখে ক্ষতিকর চিন্তা। আমরা যদি এই প্রক্রিয়াকে উল্টে দিতে পারি, অর্থাৎ ৭০-৮০ ভাগ ক্ষতিকর চিন্তাকে ইতিবাচক চিন্তায় পরিণত করতে পারি, তাহলেই আমরা মনের শক্তিকে ফলপ্রসূভাবে কাজে লাগাতে পারব। এরপরও যদি নেতিবাচক আবেগ কিছু অবশিষ্ট থাকে, তার প্রভাব এতই হ্রাস পাবে যে, তা ইতিবাচক চিন্তার প্রাধান্যের কারণে আপনার ক্ষতি করতে পারবে না।
নীতি-নৈতিকতার এই ভয়াবহ অবক্ষয়ের পেছনে কারণ কী? সমাজবিজ্ঞানীরা এর গভীরে যাওয়ার প্রয়োজনও মনে করছেন না—এটাই বোধহয় সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি। তবে যারা ভাবছেন, তারা মোটামুটি একটি জায়গায় একমত—দেশের বেশিরভাগ মানুষ অর্থবিত্ত, সম্পদ ও প্রতিপত্তির পেছনে এতটাই অন্ধভাবে ছুটছেন যে পারিবারিক শৃঙ্খলা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ধর্মীয় অনুশাসন—তিনটিই একসঙ্গে হারিয়ে গেছে। যখন টাকাই হয়ে ওঠে জীবনের একমাত্র মাপকাঠি, তখন সততা বিলাসিতা হয়ে যায়, নৈতিকতা হয়ে যায় বোঝা, আর চক্ষুলজ্জা—সেটা তো কবেই বিদায় নিয়েছে।
https://sharebiz.net/ভালো–মানুষের–অভাব–নৈতিক/
প্রিন্ট করুন



Discussion about this post