দৈনিক শেয়ার বিজ পত্রিকার ঈদ সংখ্যায় “ভালো মানুষের অভাব, নৈতিকতার সংকট ও আমাদের করণীয়” লেখাটি অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়েছি। সৈয়দা আরজুমা আখতারের এই লেখাটিতে আমাদের সমকালীন বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বাস্তবতাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বাস্তবধর্মীভাবে তুলে ধরা হয়েছে। লেখার শুরুতেই মানবসম্পদকে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে লেখক একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছেন। তবে সেই সম্পদ নৈতিকতা হারালে কীভাবে বোঝায় পরিণত হয়—এই দৃষ্টিভঙ্গি পুরো লেখাটিকে গভীরতা দিয়েছে।
আনোয়ার হোসাইন সোহেল: লেখাটির অন্যতম শক্তি হলো এর বাস্তব উদাহরণ। দৈনন্দিন জীবনের ভেজাল, প্রতারণা, সততার অভাব- এসব বিষয় তুলে ধরে লেখক পাঠককে নিজের চারপাশের বাস্তবতা নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেন। বিশেষ করে “সৎ থাকা দুর্বলতা” হিসেবে বিবেচিত হওয়া—এই পর্যবেক্ষণটি বর্তমান সমাজের এক নির্মম সত্যকে সামনে আনে।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কোরআন ও হাদিসের উদ্ধৃতি সংযোজন লেখাটিকে আরও গ্রহণযোগ্য ও প্রভাববিস্তারী করেছে। এটি শুধু নৈতিকতার গুরুত্বই তুলে ধরেনি, বরং পাঠকের মধ্যে দায়বদ্ধতা ও আত্মসমালোচনার বোধ জাগ্রত করে। একইসঙ্গে ইমাম গাজ্জালী (রাঃ) বক্তব্য সংযোজন লেখাটিকে দার্শনিক মাত্রাও দিয়েছে।
তবে লেখাটির একটি সীমাবদ্ধতা হলো—সমস্যার বিশ্লেষণ তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও সমাধানের দিকটি আরও বিস্তারিত হতে পারত। যদিও পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে, তবুও বাস্তব প্রয়োগযোগ্য কিছু নির্দিষ্ট কৌশল যুক্ত হলে লেখাটি আরও কার্যকর হতো।
সবশেষে বলা যায়, এটি একটি সময়োপযোগী, সচেতনতামূলক এবং মূল্যবোধনির্ভর লেখা, যা পাঠককে নিজের অবস্থান নিয়ে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। সমাজ পরিবর্তনের সূচনা ব্যক্তিগত পরিবর্তন থেকেই—এই বার্তাটি লেখাটির মূল শক্তি এবং তা অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
প্রিন্ট করুন

Discussion about this post