ডিএসইতে লেনদেন সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা ছাড়াল, কমেছে সূচক
ছবি সংগৃহীত
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস গতকাল বৃহস্কতিবার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের শেয়ার দাম কমার পাশাপাশি কমেছে সবকটি মূল্যসূচক। তবে বাজারটিতে লেনদেনের গতি বেড়েছে। লেনদেন বেড়ে সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। ফলে বেড়েছে মূল্যসূচক। তবে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এর মাধ্যমে সিএসইতে টানা দুই কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলল। আর ডিএসইতে শেষ পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবস দরপতন হলো। এর আগে সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবস পুঁজিবাজারে টানা দরপতন হয়। টানা দরপতনের পর বুধবার ডিএসইতে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে।
এ পরিস্থিতিতে গতকাল বৃহস্কতিবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেনের প্রথম আধা ঘণ্টা সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকে। তবে এরপর লেনদেনের সময় যত গড়িয়েছে, দরপতনের পাল্লা তত ভারী হয়েছে। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে ১৪৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ১৯০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৫৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে ভালো কোম্কানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮১টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯৪টির দাম কমেছে এবং ২০টি দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২৩টি কোম্কানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪০টির দাম কমেছে এবং ছয়টি দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্কানিগুলোর মধ্যে ৪১টির শেয়ারের দাম বেড়েছে।
বিপরীতে দাম কমেছে ৫৫টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া ১৫টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ৩টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্কানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৮৬ পয়েন্টেনেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।
বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৬৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৪০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১২৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে ১১ অক্টোবরের পর বাজারটিতে সর্বোচ্চ লেনদেন হলো। এ লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রাইম ব্যাংকের শেয়ার। কোম্কানিটির ১৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ২০ লাখ টাকার।
১০ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মতিন স্কিনিং। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার, সায়হাম টেক্সটাইল, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, শাহজিবাজার পাওয়ার, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, পূবালী ব্যাংক এবং সোনালী আঁশ।
অন্য পুঁজিবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯০টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭১টির দাম কমেছে এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৪৬ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।