কর্মক্ষেত্রে কর্মসন্তুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

মো. মশিউর রহমান : কর্মসন্তুষ্টি প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের কাজের সন্তুষ্টি একটা অপরিহার্য বিষয়। এর দ্বারা কোম্পানি সম্পর্কে কোম্পানির ভেতরের বা বাইরের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রকাশ পায়। একজন সন্তুষ্ট কর্মচারী তার কোম্পানির বড় ধরনের উৎপাদনে ও ব্র্যান্ডিংয়ে সহায়তা করে, যা কোম্পানি ও তার কর্মী সম্পর্কে একটা ইতিবাচক ধারণা দেয়। সুতরাং কর্মস্থলে কর্মীর সামগ্রিক ইতিবাচক অনুভূতিই হচ্ছে তার কর্মসন্তুষ্টি। 

ক. মজুরি: মজুরি হচ্ছে এক ধরনের অত্যন্ত কার্যকর প্রেষণা, যা একটা  প্রতিষ্ঠানে কর্মীর ব্যক্তিগত ও সামাজিক উন্নয়নে বড় ধরনের নিয়ামক এবং এটা একটা প্রেষণার শক্তিশালী উপাদানও বটে; খ. কর্মপরিবেশ: অনেক কর্মী আছেন তাদের কাছে টাকা কিংবা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা মুখ্য নয়, কিন্তু তারা চায় ভালো একটি কর্ম পরিবেশ যেখানে যুগোপযোগী ও গ্রহণযোগ্য নিয়মনীতি থাকবে, প্রয়োজনীয় আলো বাতাসসহ কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে, বিনোদনের সুযোগ থাকবে। এতে একজন কর্মী তার আত্মসন্তুষ্টি নিয়ে কাজ করতে পারবে; গ. শ্রমিক কল্যাণ: ভবিষ্য তহবিল, গ্র্যাচুইটি, পেনশন, ওয়ার্কার্স পার্টিসিপেশন ইন প্রফিট ফান্ড এবং কোম্পানির                 বার্ষিক ইনকামের ওপর ভিত্তি করে বেনিফিটসহ আর্থিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকলে প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের মধ্যে কর্মসন্তুষ্টি বেশি থাকে; ঘ. কমর্ নিরাপত্তা: কর্ম নিরাপত্তা সম্পর্কে সম্প্রতি সবচেয়ে বেশি যে বিষয়গুলো শোনা যায় সেটি হচ্ছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্মীবান্ধব নন, লোক ছাঁটাই, বেতন ঠিকমতো না দেয়া আরও অনেক কিছু আছে যা কিনা সেই নির্দিষ্ট কর্মীর কর্ম নিরাপত্তায় ব্যাঘাত ঘটায়। তাই প্রতিষ্ঠানে কর্মনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে কর্মসন্তুষ্টি বাড়ে; ঙ. উন্নয়নের সুযোগ: প্রতিষ্ঠানে কর্মীর ধাপে ধাপে ক্যারিয়ার প্ল্যানিং থাকলে এবং বিষয়টি তাকে বোঝাতে পারলে কর্মী সন্তুষ্ট থাকবে। একজন কর্মীকে ধরে রাখার ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার প্ল্যানিং কর্মী সন্তুষ্টির একটি বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। তাকে তার লক্ষ্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তাকে তার কর্ম সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ দেয়া যেতে পারে, প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতি দেয়া যেতে পারে যা কিনা কর্মীর কর্মসন্তুষ্টি নিশ্চিত করে; চ. তত্ত্বাবধান: কর্মীরা একজন বিচক্ষণ ও সফল তত্ত্বাবধায়কের নেতৃত্বে সহকর্মী হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী, তারা চায় তাদের তত্ত্বাবধায়ক সঠিক বিবেচক, দক্ষ ও আন্তরিক হোক। একজন দক্ষ তত্ত্বাবধায়কের অধীনে কাজ করে কর্মীরা সন্তুষ্টি পেয়ে থাকে; ছ. দায়িত্ব: অধিকতর দায়িত্ব একজন কর্মীকে তার কর্মক্ষেত্রে আরও বেশি দায়িত্ববান করে তুলতে পারে। সঠিক কর্মীকে সঠিক দায়িত্ব বণ্টন করতে পারলে তারা কর্মক্ষেত্রে সন্তুষ্ট থাকে সঙ্গে অধিকতর দায়িত্ব ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কর্মীর মর্যাদা বৃদ্ধি করে; জ. ভালো সহকর্মী: প্রতিষ্ঠানের উচিত প্রতিটি কর্মক্ষেত্র কে একটা ফ্রেন্ডলি কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং যার মূল দায়ভার পড়ে সেখানকার কর্মরত কর্মীদের ওপরে। কর্মীরা সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলে সবারই কাজের প্রতি গুরুত্ব ও মনোযোগ বাড়ে যা কি না কর্মীর কর্মসন্তুষ্টি বাড়ায়; ঝ. পুরস্কার: কর্মীর ভালো কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে পুরস্কৃত করলে কর্মের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং তাতে তার ম্যানেজমেন্টও কর্মীর প্রতি সন্তুষ্ট থাকে যার ফলে কর্মী ও সন্তুষ্ট থাকে।

মজুরি, কর্ম নিরাপত্তা, সম্মানজনক কর্ম পরিবেশ, সময়মতো সঠিক মূল্যায়ন, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট, কর্মক্ষেত্রে এম্পাওয়ারমেন্ট ও ওনারশিপ অর্পণÑ এগুলো ঠিক থাকলে কর্মী সব সময়ই সন্তুষ্ট থাকবে।

মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ