ক্রীড়া প্রতিবেদক: সতীর্থদের ব্যর্থতার দিনে দলের বিপর্যয়ের মুহূর্তে একাই হাল ধরেন। ওয়ালটন মধ্যাঞ্চলের রান-পাহাড়ের জবাব দিতে মুশফিকুর রহিম শুরুটা করেন ধীরে। পরে খোলস ছেড়ে বের হয়ে তুলে নেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। তাতে ফলোঅনের শঙ্কা থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছে বিসিবি উত্তরাঞ্চল।
সাদমান ইসলাম (১০৭), মার্শাল আইয়ুব (১৩২), সাইফ হাসান (৯৪) ও মোশাররফ হোসেনের (৮৩) ব্যাটে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) চতুর্থ রাউন্ডে ৫২৯ রান করে ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল। জবাবে গতকাল ৭ উইকেটে ২৮৬ রান তুলে দিন শেষ করেছে বিসিবি উত্তরাঞ্চল। উইকেটে রয়েছেন মুশফিকুর রহিম ১০১ রানে। অন্যদিকে তার সঙ্গী তাইজুল ইসলাম রয়েছেন ২১ রানে।
বিশাল লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে গতকাল ইনিংসের শুরুতেই জুনায়েদ সিদ্দিকীকে হারিয়ে বসে উত্তরাঞ্চল। এরপর মিজানুর রহমান (৩২) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (৪৫) হাল ধরেন দলটির। তাদের জুটিতে আসে ৭২ রান। ঠিক সে সময় মোশাররফ হোসেন রুবেল দলটিকে দেন জোড়া আঘাত। বাঁহাতি এ স্পিনার দুই ওভারের ব্যবধানে ফিরিয়ে দেন নাজমুল ও মিজানুরকে। সে সময় দলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন মুশফিক। কিন্তু অন্য প্রান্তে এ ডানহাতি পাচ্ছিলেন না যোগ্য সঙ্গী। শেষ পর্যন্ত ষষ্ঠ উইকেটে আরিফুল হককে নিয়ে প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর কিছুটা চড়াও হয়ে নিজের খোলস থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন মুশি। তাতে এ ডানহাতি সফল হন। ১৪৩ বলে হাফ সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরিতে পৌঁছতে খেলেন আরও ৫১ বল। সব মিলিয়ে ১৯৪ বলে সেঞ্চুরি করতে ৭টি চারের সঙ্গে একটি ছক্কা হাঁকান এ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। একই সঙ্গে দলের রানকে তিনি পৌঁছে দেন আড়াইশর ওপরে।
ওয়ালটন মধ্যাঞ্চলের সেরা বোলার ইবাদত হোসেন। ডানহাতি এ পেসার গতকাল ১৫ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১ মেডেনে ৫৮ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। এছাড়া মোশাররফ হোসেন দুটি ও ১টি করে উইকেট নিয়েছেন আবু হায়দার রনি-তানভীর হায়দার।
এদিকে অন্য ম্যাচে দক্ষিণাঞ্চলের ৪০৩ রানের জবাবে গতকাল ৩০০ রানে গুটিয়ে যায় পূর্বাঞ্চল। ১০৩ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে গতকাল দক্ষিণাঞ্চল দিন শেষ করেছে ৩ উইকেটে ১৪২ রানে। সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষের চেয়ে দলটি এগিয়ে ২৪৫ রানে।
