অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ প্রদান প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করুন

ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ দ্রুত ছাড় করানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা বলেছেন, ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা কমাতে হবে। কোথাও জমি অধিগ্রহণের চিন্তা করা হলে আগেই সেখানকার ছবি গোপনে তুলে রাখতে হবে। তাহলে কেউ তড়িঘড়ি করে বাড়িঘর নির্মাণ কিংবা কোনো গাছপালা লাগাতে পারবে না।

দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি অধিগ্রহণের পর দীর্ঘ সময়েও ক্ষতিপূরণ পাননি ক্ষতিগ্রস্তরা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর এ ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা ও অনিয়ম কমবে বলেই ধারণা।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে কিংবা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে আইন অনুসারে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করে রাষ্ট্র। ওই আইনে হুকুম-দখল প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমানোর জন্য ভূমি অধিগ্রহণের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদনের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। আইনানুসারে ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করবেন এবং প্রযোজ্য ক্ষতিপূরণ দেয়া বা সরকারি ট্রেজারিতে গচ্ছিত রাখা সাপেক্ষে ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করবেন।

দুঃখজনক বিষয় হলো, আইনগত জটিলতার কথা বলে সাধারণ মানুষের সম্পত্তি অধিগ্রহণের পরও ক্ষতিপূরণ দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদাসীন থাকে। প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করদে হবে। অনেক ক্ষেত্রে বল প্রয়োগের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণের প্রবণতা লক্ষ করা যায়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, এমন প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে শিগগির কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই বেশি ক্ষতিপূরণ পেতে একশ্রেণির মানুষ অনাবাদি, পতিত জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে। হঠাৎই নাল জমিতে বসতবাড়ি কিংবা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ঘর তোলা হয়। যাতে বেশি ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়। রাষ্ট্র অবশ্যই আইন অনুসারে ন্যায্য ও যৌক্তিক ক্ষতিপূরণ দেবে। কিন্তু রাতারাতি জমির ধরন পরিবর্তন করার প্রয়াসও অসততা।   

ভূমি অধিগ্রহণের পর দ্রুততম সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই রাষ্ট্রের কাছ থেকে অন্যায্য অর্থ দাবিও গর্হিত কাজ। কোনোটিই যেন না ঘটে, সে জন্য নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্বশীল হতে হবে।

জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণ দেয়া নিয়ে জটিলতায় জমির মালিকেরও ভূমিকা রয়েছে। আবার ধীরগতির দায় প্রশাসনের। নির্দিষ্ট সময়ে ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় জমির মালিকরা সর্বশেষ আইন অনুসারে ক্ষতিপূরণ চাইতেই পারেন। যথাসময়ে জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ দেয়া হলে বাড়তি অর্থ পরিশোধ করতে হতো না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর অধিগ্রহণের পর ক্ষতিপূরণ দেয়ার অপেক্ষায় থাকা সব প্রকল্প শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনা পরিশোধ করতে হবে। ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে যেন ঘুষ দিতে না হয়, তাও নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে কোনো প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকরা যথাসময়ে ক্ষতিপূরণ পান, সেটি নিশ্চিতে সরকার পদক্ষেপ নেবে বলেই প্রত্যাশা।