প্রতিনিধি, কক্সবাজার: মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণে বিজিবির জব্দ করা বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের মাদক ধ্বংস করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ৩৯৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। গতকাল বিজিবি কক্সবাজার রিজিয়ন সদর দপ্তর প্রশিক্ষণ মাঠে ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ’ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের উপস্থিতিতে এসব মাদক ধ্বংস করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকরোধে কঠোর থেকে কঠোরতর হতে হবে। অপরাধীদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই। মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের ২৭৪ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তে কাজ করা অনেক দুরূহ ব্যাপার। এজন্য বিজিবিকে হেলিকপ্টার থেকে শুরু অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মাদক সামাজিক ব্যাধি। এটি নিজের জীবনের সঙ্গে সঙ্গে একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দিতে পারে। দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা দুর্বার গতিতে চলছে। মাদক নিরোধ করা সম্ভব না হলে দেশের সেই উন্নয়ন যাত্রা থমকে যেতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। সেই নীতিতে কাজ করছে সরকার। মাদক সমাজকে ধ্বংস করছে। এতে পরিবার ও একটি দেশ ধ্বংসস্ত‚পে পরিণত হয়। তাই মাদকের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। তাদের বিচারকাজ সম্পন্ন করা হলে বাকিরাও সতর্ক হবে।
পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করছে বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মাদক নির্মূলে কঠোর হয়ে কাজ করতে হবে সব বিভাগকে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে জনপ্রতিনিধি, সমাজপতি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে শপথ নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে সমাজে যেন মাদক ও মাদক ব্যবসায়ী স্থান না পায়। এ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা সম্ভব হলে মাদক নিয়ন্ত্রণে আসবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মতে, মাদক নির্মূলেও সফল হতে হবে। সরকারের সদিচ্ছা রয়েছে, আমরা সফল হব। আমরা এ যুদ্ধে জয়ী হব। এজন্য একযোগে কাজ করতে হবে। অন্যথায় নতুন প্রজš§ পথ হারিয়ে ফেলবে।
বিজিবি কক্সবাজার রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার নাজম-উস-সাকিব জানান, অনুষ্ঠানে ৯০ লাখ ৮০ হাজার ৫৭৭ ইয়াবা, ২৩.৭৫১৮ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস, এক হাজার ৩৪৩ বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ, ছয় হাজার ৭৬৭ ক্যান বিয়ার, ২০৬ লিটার বাংলা মদ, ছয় কেজি গাঁজা ও জুলিয়াম ট্যাবলেট ধ্বংস করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য কানিজ ফাতেমা মোস্তাক, বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজম-উস-সাকিব, রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মো. ফখরুল আহসান, কক্সবাজার ত্রাণ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশনার রেজোয়ান হায়াত, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদসহ উচ্চপদস্থ সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে চেকপোস্টের কার্যক্রমের ওপর ডেমো ও রিজিয়নের বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, গত তিন বছরে ইয়াবা উদ্ধারের ক্ষেত্রে মূল ভ‚মিকা রেখেছে বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টর। তারা তিন বছরে তিন কোটি ১৬ লাখ ৭২ হাজার ৭৪৩ ইয়াবা উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে আটক এক হাজার ৯৭৯ আসামিসহ এক কোটি ২৪ লাখ ৪৩০টি ইয়াবা, ২৭ হাজার ৪৪৮ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস, এক হাজার ৩০৫ ক্যান বিভিন্ন ধরনের বিয়ার, ৯৮ বোতল বিভিন্ন ধরনের মদ, ১৩৭ বোতল ফেনসিডিল, ৫৮ লাখ ছয় হাজার ৮০০ লিটার বাংলা মদ, ২২ হাজার ৯৯৫ কেজি গাঁজা, তিন হাজার ১৫০ কেজি আফিম মামলার মাধ্যমে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।