শেয়ার বিজ ডেস্ক : অরুণাচল প্রদেশের কিছু জায়গার নতুন নামকরণের ঘোষণা দেয়ায় চীনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে ভারত। গতকাল বুধবার ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বেইজিংয়ের এই প্রচেষ্টাকে ‘অকার্যকর ও হাস্যকর’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নয়াদিল্লি বলেছে, চীনের এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না ভারত। খবর: নিক্কেই এশিয়া।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা লক্ষ করেছি, চীন বারবার ভারতের রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন নাম দিয়ে নিজের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। আমরা এমন প্রচেষ্টা স্পষ্টভাবে নাকচ করছি।’
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সৃজনশীল নামকরণ বাস্তবতা বদলাতে পারে না। অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অখণ্ড অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। চীন বরাবরই অরুণাচল প্রদেশকে ‘জাংনান’ বা ‘দক্ষিণ তিব্বত’ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং বারবার বিভিন্ন জায়গার নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে ওই দাবি জোরালো করার চেষ্টা করছে।
চীন এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচ দফায় অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। ২০১৭, ২০২১, ২০২৩, ২০২৪ ও সবশেষ গত ১১ মে অরুণাচলের কয়েকটি স্থানের নতুন নাম প্রকাশ করেছে বেইজিং। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, চীনের গণপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবার অরুণাচলের ২৭টি স্থানের নতুন নাম ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৫টি পাহাড়, পাঁচটি বসতি, চারটি পাহাড়ি পথ, দুটি নদী ও একটি হ্রদ।
অরুণাচল প্রদেশের ভূপ্রকৃতি দক্ষিণে পাহাড়ের পাদদেশীয় এলাকা দিয়ে শুরু হয়ে ক্ষুদ্রতর হিমালয় পর্বতমালায় উপনীত হয়েছে এবং সেখান থেকে উত্তরে তিব্বতের সঙ্গে সীমান্তের কাছে বৃহত্তর হিমালয় পর্বতমালায় মিশেছে। ব্রহ্মপুত্র নদ (এখানে সিয়াং নামে পরিচিত) ও তার বিভিন্ন উপনদী তিরাপ, লোহিত, সুবর্ণসিড়ি ও ভারেলি এখানকার প্রধান নদনদী। দক্ষিণের পাহাড়ের পাদদেশীয় এলাকার জলবায়ু উপক্রান্তীয় প্রকৃতির। পার্বত্য অঞ্চলে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা দ্রুত হ্রাস পায়। বার্ষিক ২০০০ থেকে ৪০০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। অঙ্গরাজ্যটির উদ্ভিজ্জ ও প্রাণীজীবনে এর বিচিত্র ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ুর প্রভাব দেখতে পাওয়া যায়। এখানে ৫০০-রও বেশি প্রজাতির অর্কিড গাছ আছে।




