অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশে উন্নীত করতে চায় পাকিস্তান

bar chart and rippled Pakistani flag illustration

শেয়ার বিজ ডেস্ক: অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে পাকিস্তানের অর্থনীতি সঠিক পথে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। এ ধারা ধরে রাখতে পারলে চলতি বছর সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঁচ শতাংশের বেশি হবে দেশটির প্রবৃদ্ধি, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ থেকে মুক্তি দেবে দেশটিকে। খবর: খালিজ টাইমস।

পাকিস্তানের অর্থনীতিতে সংস্কার আনতে চাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী শওকাত তারিন। চলতি বছর জুলাইয়ে শুরু হওয়া পরবর্তী অর্থবছরে দেশটির দেশজ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) ৬ শতাংশে উন্নীত করার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। বলেন, প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশে উন্নীত হলে আমাদের আর আইএমএফের দরকার পড়বে না। সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্ধিত তহবিল সুবিধা (ইএফএফ) পূর্ণ করতে পারলে আমার মনে হয় না, আর কোনো আইএমএফ কর্মসূচির প্রয়োজন পড়বে।

২০২০ সালে কভিড-১৯ মহামারি শুরুর আগে ইএফএফ নিয়ে আইএমএফের পূর্বাভাস ছিল, পাকিস্তানের অর্থনীতি মজবুত করবে এ ধরনের কর্মসূচি। তবে তাতে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে। পরে মহামারি ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ কাঠামোগত সংস্কারের বাস্তবায়নে ধীরগতি দেশটিতে যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নাজুক করবে সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

গত পাঁচ দশকে আইএমএফ থেকে ২০টির বেশি বেল আউট পেয়েছে পাকিস্তান। দেশের অর্থনীতিকে নিশ্চিত ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে এর বিকল্প ছিল না দেশটির। সর্বশেষ ২০১৯ সালের জুলাইয়ে ৬০০ কোটি ডলার ঋণ নেয় দেশটি। ইতোমধ্যে এ তহবিলের ছয়টি পর্যালোচনা সম্পন্ন করেছে দেশটি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সহায়তার জন্য এ অর্থ থেকে ৩০০ কোটি ডলার নিয়েছে। দেশটির বৈদেশিক রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় দুই হাজার ৩০০ কোটি ডলার। গত সপ্তাহে আরও একশ কোটি ডলার উত্তোলনের জন্য সপ্তম আইএমএফ পর্যালোচনা করা হয়েছে। এরপর সেপ্টেম্বরের মধ্যে অষ্টম ও নবম পর্যালোচনা করে বাকি দুইশ ডলার তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তারিন।

অর্থমন্ত্রী মনে করেন, ৫ থেকে ৬ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলে আইএমএফ ও অন্য বহুজাতিক দাতাসংস্থা থেকে নির্ভরতা কমে আসবে। তিনি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেতৃত্বে এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারব। তার মতে, সরকারের বর্তমান অর্থনৈতিক সংস্কার রুগ্ণ শিল্প পুনরুজ্জীবিত করবে, কৃষি খাতে উন্নয়ন ঘটাবে ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও রপ্তানি বাড়াব। যদিও আসছে বছরগুলোয় দেশটিকে সঞ্চয় হার ও রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে হবে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমরা সঞ্চয়ের হার বাড়াতে ও কর সংগ্রহে কঠোর পরিশ্রম করার পাশাপাশি আমদানি ও রপ্তানির ব্যবধান কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। রাজস্ব আয় ইতোমধ্যে ৬ লাখ কোটি  ছাড়িয়েছে এবং আগামী বছর আমরা ৮ লাখ কোটি রুপি কর আহরণের আশা করছি।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সঞ্চয়ের হার বর্তমান ১৫ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা উচিত। পাকিস্তানের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আয় বাড়ছে। আগামী বছরগুলোয় এ খাত থেকে রপ্তানি আয় আরও বাড়বে বলে আশাবাদী তারা। এ খাতের উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দেয়ার কথা বলেছেন তারা।

চীনের সহায়তায় পাকিস্তানের কৃষি খাতের উন্নয়ন নিয়ে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, চীন আমাদের দেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করবে এবং এখানে অনেক কর্মসংস্থান হবে। আগামী দশ বছরে বিভিন্ন দেশে চীন প্রায় ৮ কোটি ৫০ লাখ কর্মসংস্থান করবে। আমরা চীনকে পাকিস্তানে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের অনুরোধ করেছি। পাকিস্তান থেকে চীনে আমদানিও বাড়াবে বলে জানান মন্ত্রী।

ইতোমধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কেপিয়াংয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সফল বৈঠক হয়েছে এবং তারা পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে একমত হয়েছেন।