নিজস্ব প্রতিবেদক : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পে অভিনব এক ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি অস্তিত্বহীন ব্র্যান্ডের নামে ওয়েবসাইট বানিয়ে এবং তাতে মনগড়া তথ্য আপলোড করে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরকারি টেন্ডার হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে। প্রথম ধাপে টেন্ডার কমিটি এমন একটি প্রস্তাবের প্রাথমিক অনুমোদনও দিয়েছে। কিন্তু পরে বিষয়টি ধরা পড়লে তদন্ত কমিটি গঠন করার পরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তে অগ্রগতি নেই। এতে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযুক্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স সরকার কবির আহমেদ। প্রতিষ্ঠানটি ‘খরযড়ঃৎধ’ নামে এক অপরিচিত ব্র্যান্ডের তিনটি হেভি ক্রেন সরবরাহের প্রস্তাব দেয়। টেন্ডার আইডি নম্বর ১০৬০৯১৭-এর আওতায় এই সরবরাহ প্রক্রিয়া চলছিল।
যাচাই করে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি যে ব্র্যান্ডের ক্রেন সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে, তার ওয়েবসাইট িি.িষরযড়ঃৎধ.পড়স-এ কেবল একটিমাত্র ব্রোশিওর রয়েছে, যেটি আবার হুবহু টেন্ডারের কারিগরি স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে মিলে যায়।
ওয়েবসাইটটি এমনভাবে বানানো হয়েছে, যেন এটি একটি আন্তর্জাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান; কিন্তু বাস্তবে সেখানে কোনো কার্যকর বা বাস্তব অস্তিত্বের প্রমাণ নেই। এই ওয়েবসাইটে নেই কোম্পানি প্রোফাইল, নেই কোনো যোগাযোগের ঠিকানা বা অতীত কার্যক্রমের বর্ণনা। পর্যালোচনার পর প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে সন্দেহ জাগে, শুধু এই দরপত্রের জন্যই ওয়েবসাইটটি বানানো হয়ে থাকতে পারে।
এমন অভিযোগ ওঠার পর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ৬ মে একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রধান করা হয় অধিদপ্তরের একজন যুগ্ম সচিবকে। অফিস আদেশ অনুযায়ী কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। সে হিসাবে ১৫ মে ছিল চূড়ান্ত সময়সীমা। কিন্তু গতকাল রোববার পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন জমা পড়েনি। বরং জানা গেছে, কমিটি এখন পর্যন্ত একটি বৈঠকও করতে পারেনি।
তদন্ত কমিটির কার্যক্রমে এমন স্থবিরতার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কমিটির সভাপতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (গবেষণা ও প্রশিক্ষণ) নাহিদ সুলতানা মল্লিক বলেন, ‘কমিটিতে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধি রাখার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কিছু বিভাগ থেকে প্রতিনিধি পাঠাতে বিলম্ব হয়েছে। এ কারণে কমিটির কাজ শুরু করা যায়নি।’ তিনি জানান, আগামীকাল (আজ) কমিটির প্রথম বৈঠক ডাকা হয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, টেন্ডার প্রক্রিয়া ডিজিটাল হলেও সব তথ্য যাচাই না করলে জালিয়াতির সুযোগ থেকে যায়। এখানে ওয়েবসাইটটিকে সত্য বলে ধরে নেয়া হয়েছিল, অথচ গভীরভাবে খতিয়ে দেখলে এটি যে জালিয়াতির কৌশল, তা স্পষ্ট।
সরকারি টেন্ডার ব্যবস্থাপনায় তথ্য যাচাই ও নিরাপত্তা ঘাটতির সুযোগেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন অনেকেই। দীর্ঘদিন তদন্ত ঝুলে থাকা বা কমিটির কার্যক্রম শুরু না হওয়াকে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।




