নিজস্ব প্রতিবেদক:‘রিজার্ভে চাপ পড়েছে। আশা করি আস্তে আস্তে তা স্বস্তিদায়ক হবে। দেশের টাকার প্রয়োজন আছে। আইএমএফের ঋণ আমাদের প্রয়োজন আছে, কিন্তু কোনো কঠিন শর্ত মেনে নেয়া হবে না। যৌক্তিক পরামর্শ মেনে নেয়া হবে।’ গতকাল বুধবার সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আইএমএফের কঠিন শর্ত নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
বৈশ্বিক সংকট প্রসঙ্গে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘সামনে অর্থনৈতিক বড় সংকট আসছে। সরকার সেটি সামাল দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। অনেকের তুলনায় বাংলাদেশ এখনও স্বস্তিদায়ক অবস্থানে আছে। সংকটের আলামত আছে বলেই প্রধানমন্ত্রী বারবার এটি উল্লেখ করছেন।’
দলের সম্মেলন বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল জাঁকজমক হবে না। কারণ বৈশ্বিক সংকট চলছে। জাতীয় সম্মেলনের আগে সারাদেশের কাউন্সিলগুলো শেষ করা হবে।’ জাতীয় কাউন্সিলের জন্য ১১টি উপকমিটি হয়েছে বলে জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র বিকাশমান প্রক্রিয়া। আমাদের চেষ্টা আছে, আছে ভুলত্রুটি এবং সংশোধনের চেষ্টাও। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করবে। কমিশন যেটা আছে, সেটা ‘আজিজ মার্কা’ কমিশন নয়। আইনগতভাবে কমিশন কাজ করবে। এই কমিশনের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপির আপত্তি কোথায়?’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো যে সংকটে দেশ রয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসা নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায় যাওয়াই বিএনপির লক্ষ্য।’
বরিশালে বিএনপির সমাবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বরিশালে বিএনপির সমাবেশের সময় দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কি না জানি না। বাড়াবাড়ি হলে বিষয়টি ভালোভাবে নেয়া হবে না, খোঁজ নিচ্ছি।’
বিএনপির সমাবেশে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা যারা পরিবহন মালিক, তারা বাস ধর্মঘট করেছেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সেখানে জাপা, বিএনপি নেতা ও শাজাহান খান আছেন, তাদের জিজ্ঞেস করুন। আমার এটা জানা নেই।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি সমাবেশের মাধ্যমে প্রস্তুত হচ্ছে। কিন্তু সরকার ভয় পায় তাদের আগুন-সন্ত্রাসকে। বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বললেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আসবে। তাদের টাকার উৎস ও কাকে কত দেয়া হবে, সেটার হিসাব করছে তারা, সেটাও আমরা জানি।’