প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বিএনপি, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ সদস্যসহ দুই শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে পৌর সদরের সৈয়দগাঁও চৌরাস্তা এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।
কিশোরগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিএনপির আজকের (গতকাল) সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের অনুমতি ছিল না। মিছিল নিয়ে তারা পৌর বাজারের দিকে আসতে চাইলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষে আমাদের বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, পূর্ব ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা ১১টার দিকে পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শুরু করে। বিক্ষোভ কেন্দ্র করে বিএনপি, পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় তিন পক্ষের দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল বিকালে একই দিন রুহিয়া থানা বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি ও থানা মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মসূচি কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রুহিয়া থানা এলাকার বিভিন্ন রাস্তায় ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ হয়। এতে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনসারুল ইসলামসহ কয়েকজন আহত হন। ভাঙচুর করা হয় কয়েকটি মোটরসাইকেল ও দোকানপাট। ঘটনাস্থলে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, দুই দল একই সময় সভা ডেকেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের আলাদা সময় সভা করার কথা বলা হয়েছিল।
অন্যদিকে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে মঞ্চ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করায় উপজেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন পণ্ড হয়ে গেছে। গতকাল বেলা ৩টার দিকে উপজেলা সদরের গোপালপুর এলাকার ফায়ার সার্ভিস মোড়ে এ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, পূর্বনির্ধারিত উপজেলা বিএনপির সম্মেলনের উদ্বোধন করার কথা ছিল জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আনোয়ারুল হকের। প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ারেছ আলী সম্মেলনের প্রধান বক্তা ছিলেন। সম্মেলন সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। আজ (গতকাল) বেলা পৌনে ১টার দিকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাঈনুল হকের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে ফায়ার সার্ভিস মোড় এলাকায় বিএনপির সম্মেলনস্থলে গিয়ে হামলা চালান। তারা সম্মেলনের মঞ্চ ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেন। তবে এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মোস্তাক আহমেদ বলেন, পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের প্রস্তুতি নেয়া হয়। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান মাঈনুল হকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে মিছিল করে সম্মেলন মঞ্চটি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে আপাতত সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাঈনুল হক বলেন, আমরা দলীয় নেতাকর্মীরা একত্র হয়ে বিএনপির নৈরাজ্যবিরোধী একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেছিলাম। পরে খবর পাই, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে জড়ো হচ্ছে। এ জন্য আমরা মঞ্চটি ভেঙে দিয়েছি। বারহাট্টায় কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নৈরাজ্য করতে দেয়া হবে না বলে তিনি জানান।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লুৎফুল হক বলেন, মঞ্চে হামলার বিষয়ে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। হামলার নিন্দা জানিয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে সম্মেলনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। কিন্তু তার আগে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা মঞ্চ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে সম্মেলনটি পণ্ড করে দেয়। এ ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই।