সরোজিনী নাইডু (১৮৭৯-১৯৪৯) কবি ও রাজনীতিক। ১৮৭৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ভারতের হায়দ্রাবাদে তার জš§। তার পৈতৃক নিবাস ছিল বিক্রমপুরের ব্রাহ্মণগাঁও। নাইডুর বাবা ড. অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন হায়দ্রাবাদের নিজামের শিক্ষা উপদেষ্টা। তার মা বরোদা সুন্দরী দেবী ছিলেন কবি। সরোজিনী নাইডু ১৮৯১ সালে মাদ্রাজ ইউনিভার্সিটি থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৮৯৫ সালে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে যান। সেখানে প্রথমে কিংস কলেজ এবং পরে ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির গির্টন কলেজে অধ্যয়ন করেন (১৮৯৫-১৮৯৮)। ১৮৯৮ সালে ইংল্যান্ড থেকে ফেরার পর হায়দ্রাবাদের ড. মতিয়ালা গোবিন্দরাজলু নাইডুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সরোজিনী নাইডু ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ১৯১৫ সালে তিনি অল ইন্ডিয়া ন্যাশনাল কংগ্রেসে যোগ দেন। তিনি ১৯১৬ সালে বিহারে নীলচাষিদের অধিকারের দাবিতে প্রচারাভিযানে অংশ নেন। ১৯১৭ সালে নারীর ভোটাধিকারের দাবিতে অ্যানি বেসান্তকে সভাপতি করে উইমেন ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হলে নাইডু এই সংগঠনের সদস্য হন। ১৯১৯ সালে সরোজিনী নাইডু অল ইন্ডিয়া হোম রুল ডেপুটেশনের সদস্য হিসেবে ইংল্যান্ডে গমন করেন এবং ১৯২০ সালের জুলাই মাসে ভারতে ফিরে আসেন। ১৯২০ সালের ১ আগস্ট তিনি মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন। ১৯২৪ সালের জানুয়ারি মাসে পূর্ব আফ্রিকান ভারতীয় কংগ্রেসে যে দুই কংগ্রেস দলীয় প্রতিনিধি অংশ নেন, সরোজিনী নাইডু ছিলেন তাদের একজন। ১৯২৫ সালে তিনি কানপুরে অনুষ্ঠিত অল ইন্ডিয়া ন্যাশনাল কংগ্রেসের বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯২৬ সালে অল ইন্ডিয়া উইমেন কনফারেন্স গঠিত হলে সরোজিনী এর সভাপতি নির্বাচিত হন এবং নারী শিক্ষা অধিকার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৪২ সালের ২ অক্টোবর ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনে জড়িত থাকার জন্য তাকে গ্রেপ্তার করে ২১ মাস কারান্তরীণ রাখা হয়। সরোজিনী তার বাগ্মিতার জন্য খ্যাতিমান ছিলেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর সরোজিনী নাইডু ভারতের উত্তর প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত হন এবং আমৃত্যু এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। সরোজিনী নাইডু ছিলেন একজন খ্যাতিমান কবি। তিনি ঞযব অসনধংংধফড়ৎ ড়ভ ঐরহফঁ গঁংষরস টহরঃু (১৯১৬) শীর্ষক মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ’র জীবনীগ্রন্থ রচনা করেন। তার রচিত কবিতা সংগ্রহ ঞযব ড়েষফবহ ঞযৎবংযড়ষফ ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি সাধারণ্যে ‘বুলবুলে হিন্দ’ খেতাবে বিভূষিত হন। ১৯০৮ সালে হায়দ্রাবাদে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতার জন্য ব্রিটিশ সরকার তাকে কায়সার-ই-হিন্দ স্বর্ণপদক প্রদান করে। ১৯৪৯ সালের ২ মার্চ এলাহাবাদে তার মৃত্যু হয়। সরোজিনী নাইডুর আজীবন কর্মসাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার সরোজিনী নাইডু স্বর্ণপদক প্রবর্তন করেছে। [সংগৃহীত]



