সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম : দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ এলাকায় দেশি পেঁয়াজের বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকা, আমদানিকৃত রসুন কেজি প্রতি ১০ টাকা কমে ১২০ টাকা এবং আদা কেজি প্রতি ২০ টাকা কমে ৮০ টাকা, যা এক বছর আগে পেঁয়াজের দাম ছিল ৯০ টাকা, রসুন ছিল ২৪০ টাকা এবং আদা ৩০০ টাকা। অর্থাৎ এক বছর ব্যবধানে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম কমেছে ৫০ শতাংশ এবং আদার দাম কমেছে ৬৬ শতাংশ। বাজারে সরবরাহ বাড়ার কারণে এসব মশলাপণ্যের দাম কমেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে খাতুনগঞ্জ এলাকার পাইকারি বাজার ঘুরে জানা যায়, দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৩ থেকে ৪৬ টাকা, দেশি রসুন কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, আমদানিকৃত রসুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা এবং দেশি আদা ৯০ টাকা এবং আমদানি করা আদা ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদি কয়েক মাস আগেও এমন দাম ছিল না। কাঁচাবাজার করতে আসা আমজাত হোসেন বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ।
এই ঈদে আদা, রসুন, পেঁয়াজসহ বেশ কিছু মসলার চাহিদা থাকে। বর্তমানে বেশ কিছু মশলাপণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। এসব পণ্যের দাম কমলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের অনেক সুবিধা হয়। মূলত বাজার সরবরাহ বেশি থাকায় বাজার দাম কমছে। পাইকারি পেঁয়াজ, আদা ও রসুন বিক্রেতা শাকিল মাহমুদ বলেন, ঈদকে সামনে রেখে বাজারে বেশ কিছু পণ্যের সরবরাহ বেশি পরিমাণ রয়েছে। এতে করে সামনে ঈদে দাম বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। তবে দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়ার পাঁয়তারা করে তাহলে ব্যবসায়ীদের ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিতে হবে।
বর্তমানে বাজার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আছে। আমরা কম দামে কিনে কম দামে বিক্রি করছি।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গত এক বছর আগের বাজারদরের তালিকানুযায়ী, বাজারে প্রতি কেজি দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে যা ছিল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। তবে বাজারে আমদানি করা আদা ২০০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৯০ থেকে ২৪০ টাকা। অর্থাৎ এই সময়ে কেজিতে আমদানি করা আদার দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। বাজারে দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। এই সময়ে দেশি রসুন বিক্রি হয়েছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। আমদানি করা বিদেশি রসুনের দাম ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি ছিল।
এ বিষয়ে খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন শেয়ার বিজকে বলেন, ২০২১ সাল থেকে ডলার সংকট পড়ে অনেক আমদানিকারক আমদানি থেকে ছিটকে পড়েছিল। ফলে আদা রসুন পেয়াঁজ একটা সিন্ডিকেটের হাতে ব্যবসা চলে যায়। এখন সেই সময় নেই। এখন বাজারে আমদানিকারক বেশি। ফলে আমদানিও বেশি।
এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজার আদা ও রসুনের দাম কম। ফলে বাজারে অন্যান্য বছরের তুলনায় দাম কম। আর দেশি পেঁয়াজ তো এককভাবে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। সব মিলিয়ে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম সহনীয়। তবে ঈদের বিক্রি কম।




