নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের মেয়র ইস্যুতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, আপিল বিভাগের রায় পাওয়ার পর তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ইশরাকের মেয়র ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে সিইসি তার কার্যালয়ের সামনে গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আপিল বিভাগের রায় এখনো পাইনি। এটা পাওয়ার পরে কী রায় আসে, কী ধরনের সিদ্ধান্ত আসে, তার আইনগত দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমাদের যা করণীয়, তা-ই করব। সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘রায় তো আমি পাইনি। টেলিভিশনের ‘স্ক্রল’ দেখে তো আর কোনো মন্তব্য করা যায় না।’
এর আগে গতকাল বিকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেন।
গতকাল সকালে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ঘোষণার গেজেট স্থগিত চেয়ে করা লিভ টু আপিল পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
এদিকে সর্বোচ্চ আদালতের যে রায় হয়েছে, অবিলম্বে তা কার্যকর করে স্থানীয় সরকারকে শপথ পড়ানোর ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। নইলে নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনবকে আরও বেগবান করার কথা বলেন তিনি।
ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ঘোষণা করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায় ও গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা লিভ টু আপিল পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তির পর এ কথা বলেন তিনি। নগর ভবনে এসে সেখানে অবস্থানরত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে গতকাল বক্তব্য দেন ইশরাক।
সমর্থকদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে সরকারের উদ্দেশে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘এই রায়ের পর অবিলম্বে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে আমার শপথ গ্রহণের জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। আপনারা শপথ নিয়ে যে টালবাহানা করছেন, তারই পরিপ্রেক্ষিতে টানা দুই সপ্তাহ নগর ভবনের সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এটি করার কোনো এখতিয়ার আপনাদের নেই।’
ইশরাক হোসেন আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষণার পরপর আপনাদের উচিত ছিল শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা। যেহেতু আগে এটা করেননি, এখন সর্বোচ্চ আদালতের এই নির্দেশনা আপনাদের ওপর এমনিতেই বর্তায়। যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করবেন। অন্যথায় আপনাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতের অবমাননার অভিযোগ চলে আসবে।’
ইশরাক হোসেন আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আইনের শাসনে বিশ্বাসী। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ বাংলাদেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু আপনারা দেখেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং এর সঙ্গে জড়িত কিছু প্রশাসনের কর্মকর্তা আমাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনীত প্রার্থী ছিলাম বলে আমার প্রতি এই বৈষম্য করা হয়েছিল। আজকের রায়ের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হলো।’
