আফগান অর্থনীতি পুনর্গঠনে চীন ও পাকিস্তানের বৈঠক

শেয়ার বিজ ডেস্ক: নিরাপত্তার উন্নতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে গত শনিবার ইসলামাবাদ ও বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছে কাবুল। একঘরে আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী পাকিস্তান ও চীন। বিরল এক সফরে শনিবার ইসলামাবাদে যান আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। সেখানেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। খবর: ডেইলি সাবাহ।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, সন্ত্রাসবাদ, বাণিজ্য ও সংযোগ নিয়ে পঞ্চম ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য তিন দেশ একই এজেন্ডা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছে। এদিন দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাং বলেন, চীন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সঙ্গে সন্ত্রাস দমন ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছে এবং সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি মোকাবিলায় আমরা কাজ করতে চাই। তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যকার চতুর্থ কৌশলগত গোলটেবিল বৈঠকের পর এ মন্তব্য করেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেন, আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সন্ত্রাসবাদ, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। তাই আমরা আফগানিস্তানের জনগণকে সহায়তার জন্য একসঙ্গে কাজ করছি।

চীন ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেন। তারা কাবুলকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা করতে চান। এর মধ্যে বিদেশে আফগানিস্তানের জব্দ অর্থ ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করা হবে বলে জানান তারা।

২০২১ সালের ১৫ আগস্ট তালেবান আফগানিস্তানের মসনদে বসে। এরপর সেপ্টেম্বরের শুরুতে তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার ঘোষণা দেয়। অবশ্য সরকার গঠন করলেও বিশ্বের কোনো দেশ এখন পর্যন্ত তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। এর জেরে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতা সংস্থাও আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তাসহ অর্থ সহায়তা বন্ধ করে দেয়। আফগানিস্তানকে স্বীকৃতি না দিলেও বারবার মানবাধিকার ও নারী অধিকারের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েছে তারা। তাদের অন্যতম দাবি ছিল, মেয়েদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। তালেবান সরকারের স্বীকৃতি ও আফগানিস্তানকে ত্রাণসাহায্য দেয়ার ক্ষেত্রেও নারী অধিকার ও শিক্ষার বিষয়টি তারা উল্লেখ করেছে। এখনও নারীদের বিভিন্ন অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ থেকে শুরু করে এনজিওতে কাজের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে তারা। নারীদের জনসমাগম স্থানে চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ বিষয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে পশ্চিমা বিশ্বে। তালেবান প্রশাসনকে কঠোরভাবে সতর্কও করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২১ সালেই দেশটির বিপুল অর্থ জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির ওপর আফগানিস্তান ত্যাগে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের নিষেধাজ্ঞাও ছিল। তবে শনিবার ইসলামাবাদ সফরের জন্য তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল। তিনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।

কর্মকর্তারা বলেছেন, আফগানিস্তানের নিরাপত্তার উন্নতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে কীভাবে সর্বোত্তমভাবে সাহায্য করা যায়, তার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়েছে বৈঠকে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি গণমাধ্যমকে বলেছেন, আফগান কর্তৃপক্ষের কাছে ধারাবাহিকভাবে আমাদের বার্তা ছিল ‘আমাদের সাহায্য করুন, আমরাও আপনাদের সাহায্য করব’।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাং বলেছেন, বেইজিং ও ইসলামাবাদ উভয়ই আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করতে প্রস্তুত। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আশা করি তালেবান অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ও মধ্যপন্থী নীতি গ্রহণ করবে এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে।

আফগানিস্তানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী চীন ও পাকিস্তান। বেইজিং তাদের ক্ষুদ্র অংশীদারিত্বপূর্ণ সীমান্তজুড়ে থাকা বিপুল অব্যবহƒত খনিজ সম্পদের দিকে নজর রাখে। অন্যদিকে ইসলামাবাদ তাদের সীমান্তে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক।

ইউরেশিয়ান সেঞ্চুরি ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠান প্রেসিডেন্ট ইরফান শাহজাদ তাকালভি জার্মান প্রেস এজেন্সিকে (ডিপিএ) বলেন, আমরা আশা করতে পারি তিন দেশ অবস্থার উন্নতিতে একযোগে কাজ করবে এবং চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর (সিপিইসি) ব্যবহারের সুযোগ পাবে আফগানিস্তান।