রাষ্ট্রীয় ৪ ব্যাংকের সাথে গভর্নরের বৈঠক

আমদানি দায় মেটাতে রেমিট্যান্স বাড়ানোর তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারের সার, জ্বালানি ও খাদ্য আমদানির বেশিরভাগই হচ্ছে রাষ্ট্রীয় ৪ ব্যাংকের মাধ্যমে। অতি প্রয়োজনীয় এসব পণ্যের আমদানি দায় মেটাতে ডলারের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রেমিট্যান্স বাড়ানোর ওপর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বিভিন্ন দেশে ব্যাংকের নিজস্ব প্রতিনিধি পাঠিয়ে প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। গতকাল রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের এমডির সাথে বৈঠক করে এমন বার্তা দিয়েছেন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ডেপুটি গভর্নরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকটি এমন এক সময়ে ডাকা হলো যখন এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) ১ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের অপেক্ষায় রয়েছে। দু’এক দিনের মধ্যে আকুর দায় পরিশোধের পর রিজার্ভ আরও কমে ৩১ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নামবে।

জানা গেছে, বৈঠকে রমজানে প্রয়োজনীয় পণ্যের এলসির দায় নিস্পত্তি, ডলার ধারন ও তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বলা হয়- সরকারের সার, জ্বালানি ও খাদ্যেরর মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি দায় মেটাতে শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভর হলে চলবে না। নিজেদের আয় বাড়াতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে চলতি অর্থবছরের এ পর্যন্ত রেকর্ড ১০ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়েছে। গত অর্থবছর বিক্রি করা হয় ৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। এর বেশিরভাগই দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোকে। এভাবে ডলার বিক্রির ফলে এরই মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩২ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। গত বছরের এ সময়ে রিজার্ভ ছিল ৪৬ বিলিয়ন ডলার। আর দেশের ইতিহাসে রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে ২০২১ সালের আগস্টে।

এমডিদের বলা হয়- প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি অব্যাহত রাখতে হবে। এজন্য নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। তা না করে এভাবে ডলার বিক্রি অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও কমে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নামবে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

বৈশ্বিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। সঙ্কট মেটাতে আমদানি ব্যয় কমানোর বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক। হুন্ডি তৎপরতা কমিয়ে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়ানোর উপায় খোঁজা হচ্ছে। আইএমএফ থেকে এরই মধ্যে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের প্রথম কিস্তি পাওয়া গেছে। আও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এভাবে রিজার্ভের অস্বস্তিদায়ক অবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।