Print Date & Time : 24 May 2026 Sunday 4:17 am

আম কেন্দ্রিক সমস্যার সমাধান হোক

‘আম কেন্দ্রিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে করণীয়’ শীর্ষক এক সংলাপ গত সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তাতে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এতে নিজস্ব অবস্থান থেকে বক্তব্য তুলে ধরেছেন তারা। ওই এলাকার প্রধান অর্থকরী ফসল আমকে ঘিরে স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরা যে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, তা কারও অজানা নয়। অতীতে বিভিন্নভাবে তারা সেগুলো তুলে ধরার চেষ্টাও করেছেন। আমাদের ধারণা, ওই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের সমস্যাগুলো প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে স্পষ্ট হবে। এ অবস্থায় আমরা চাইব, অনুষ্ঠানে আলোচিত সমস্যাগুলোর সমাধানে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। এতে আমচাষি বা ব্যবসায়ীরা শুধু নন, সুফল পাবে স্থানীয় অর্থনীতি।
রাজশাহী অঞ্চলের আমের সুনাম রয়েছে সারা দেশে। কিছুদিন পরেই ওই অঞ্চলে উৎপাদিত আম ছড়িয়ে পড়বে দেশের বিভিন্ন বাজারে। জাতভেদ ও প্রাকৃতিক কারণেই এ অঞ্চলের সব জেলায় আম একই সময়ে পরিপক্ক হয় না। তবে অতিরিক্ত মুনাফার আশায় অপরিপক্ক আম বাজারজাতের চেষ্টা দেখা যায় একশ্রেণির চাষি ও ব্যবসায়ীর মধ্যে। এতে আমের ফলনই শুধু ব্যাহত হয় না, তারতম্য ঘটে ফলটির স্বাদ ও পুষ্টিমানে। ক্ষেত্রবিশেষে এ ধরনের ফল কিনে প্রতারিত হন ক্রেতা। অনুষ্ঠানে ওখানকার জেলা প্রশাসক অবশ্য বলেছেন, আগাম জাতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কোনো ব্যবসায়ী যেন অপরিপক্ক আম বাজারজাত করতে না পারে, সেজন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমরা তার এ বক্তব্যকে স্বাগত জানাই। আশা করি, এ বিষয়ক বার্তা চাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যেও চালানো হবে পর্যাপ্ত প্রচারণা। মৌসুম চলাকালে ফলটির আহরণ ঘিরে প্রশাসনের কঠোর মনোভাব বজায় থাকলে চাষি ও ব্যবসায়ীর মধ্যে যেসব মতদ্বৈধ ও বিরোধ সৃষ্টি হয়, সেগুলোও কমানো যাবে।
বাংলাদেশ থেকে আম রফতানিও হচ্ছে এখন। বলা বাহুল্য, এসবের ভোক্তা শুধু প্রবাসী বাংলাদেশি নন, বিদেশিরাও। প্রবাসী বাংলাদেশি কিংবা বিদেশি নাগরিকÑভোক্তা যিনিই হোন, খাদ্যপণ্য হিসেবে আম রফতানি করতে হবে সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়ম-কানুন মেনে। স্বাদ ও পুষ্টিমানে সমস্যার কারণে ফলটির রফতানি কমে গেলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এজন্য কর্তৃপক্ষের উচিত হবে বিশেষত আম রফতানি ইস্যুটি সতর্কতার সঙ্গে হ্যান্ডল করা। ফলটি উৎপাদনে চাষি পর্যায়ে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ফরমালিন প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। উভয়টিই মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ইস্যুটি ওই সংলাপ অনুষ্ঠানে আলোচিত হয়েছে কি না, জানা নেই। প্রত্যাশা থাকবে, এ ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টিতে দরকারি পদক্ষেপ নেবে স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও প্রশাসন।
রাজশাহী অঞ্চলের বাইরেও ফলটির উৎপাদন হচ্ছে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে। দেশের বাজারের চাহিদার তুলনায় এর উৎপাদন কেমন, সে বিষয়ক হালনাগাদ পরিসংখ্যানও থাকা দরকার সংশ্লিষ্ট বিভাগের হাতে। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল হওয়ায় এর রফতানি আরও বাড়ানো সম্ভব। আমরা চাইব, ফলটির নতুন রফতানি বাজার অন্বেষণেও পদক্ষেপ নেবে কর্তৃপক্ষ।