সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে আরও ৩৫ কনটেইনার পেঁয়াজ। চীন, মিসর, পাকিস্তান ও ভারত থেকে আসা এসব কনটেইনারে প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সাত আমদানিকারক। চলতি সপ্তাহে কিছু পেঁয়াজ খালাস হতে পারে। এর মধ্যে ১০ কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে খালাসের জন্য অপেক্ষা করছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্রে জানা যায়, ঢাকা ও চট্টগ্রামের সাত আমদানিকারক চারটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির করছে। ১০টি চালানের মাধ্যমে প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে চীন থেকে ৫৮০ টন ৫৮০ কেজি, পাকিস্তান থেকে ২০৩ টন ৩১৫ কেজি, মিসর থেকে ৮৪ টন ৫০৪ কেজি, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৫৭ টন ২৯ কেজি ও ভারত থেকে ২৬ টন ৩১২ কেজি আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে খালাসের জন্য অপেক্ষা করছে।
এসব আমদানিকারকদের মধ্যে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের বিএসএম সিন্ডিকেট চীন থেকে ৫৮০ টন ৫৮০ কেজি পেঁয়াজ আমদানি করছে। চলতি মাসের ১৭ তারিখে ২০টি কনটেইনারে করে পেঁয়াজ নিয়ে চীন থেকে জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এছাড়া পাকিস্তান থেকে ঢাকার আমদানিকারক মেসার্স ব্রাদার্স ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এমআর ট্রেডিং ও তাশো এন্টারপ্রাইজ প্রায় ২০৩ টন ৩১৫ কেজি পেঁয়াজ আমদানি করছে। এর মধ্যে মেসার্স ব্রাদার্স ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের ৮৬ টন ৮৯০ কেজি (তিন কনটেইনার) পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে খালাসের জন্য অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে এই আমদানিকারকের সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর থেকে ছেড়ে আসা জাহাজে আরও দুই কনটেইনার ৫৭ টন ২৯৯ কেজি পেঁয়াজ খালাসের জন্য অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান থেকে এমআর ট্রেডিং ১১৫ টন ৫৬২ কেজি (চার কনটেইনার) পেঁয়াজ আমদানি করেছে। এর মধ্যে দুই কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে খালাসের অপেক্ষায় আছে। মিসর থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে ঢাকার আমদানিকারক হাফিজ করপোরেশন। তাদের পেঁয়াজের পরিমাণ ২৮ টন ১৬৮ কেজি (এক কনটেইনার)। আর মেসার্স রামিসা এন্টারপ্রাইজের আমদানি করেছে ৫৬ টন ৩৩৬ কেজি (দুই কনটেইনার), যা চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে খালাসের জন্য অপেক্ষা করছে।
এছাড়া এমআর ট্রেডিংয়ের ৫৮ টন ১৬২ কেজি (দুই কনটেইনার) পেঁয়াজ পাকিস্তানের করাচি বন্দর থেকে চলতি মাসের ১৭ তারিখে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। আর মান্দ্রাক লিমিটেড ২৬ টন ৩১২ কেজি (এক কনটেইনার) পেঁয়াজ আমদানি করেছে ভারতের গুজরাট থেকে, যা গতকাল জাহাজে করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।
এ বিষয়ে ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এম নাজের হোসাইন শেয়ার বিজকে বলেন, সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমাদানি করা প্রয়োজন। এছাড়া সরকারিভাবেও পেঁয়াজ আমদানির দরকার আছে। কিন্তু টিসিবির কোনো কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। ঢাকায় ৩৫ গাড়ির মাধ্যমে দৈনিক এক টন পেঁয়াজ বিক্রি করা হলেও দেশের অন্য জায়গায় সে ব্যবস্থা রাখা হয়নি। অন্যদিকে বেসরকারিভাবে যে পরিমাণে আমদানি হচ্ছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। ফলে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা সংকট কাজে লাগিয়ে জনগণের পকেট কাটছে।




