শেয়ার বিজ ডেস্ক: ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি ওই ঘোষণা দেন। এরপর গতকাল ভোরে সামরিক অভিযান চালায় রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। খবর: বিবিসি।
ইউক্রেনের রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ইউক্রেনীয় আগ্রাসনের মুখে মস্কোর কাছে সহায়তা চাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন পুতিন। তিনি রুশ বাহিনীকে মানুষ রক্ষার নির্দেশ দেন। আর ইউক্রেনীয় বাহিনীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান।
হামলার আগে পুতিন বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনীয় বাহিনীর মধ্যে সংঘাত অনিবার্য। আর এটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র, যখন ইউক্রেনীয় সেনারা অবিলম্বে অস্ত্র নামিয়ে রাখবে এবং বাড়ি ফিরে যাবে। ইউক্রেনকে সতর্ক করে পুতিন বলেন, কোনো রক্তপাত হলে সেজন্য তারাই দায়ী থাকবে।
ভাষণে পুতিন আরও বলেন, ন্যায় ও সত্য রাশিয়ার পক্ষে রয়েছে। কেউ রাশিয়া দখল করতে চাইলে মস্কোর জবাব হবে তাৎক্ষণিক। আত্মরক্ষার জন্যই পদক্ষেপ নিয়েছে রাশিয়া।
পশ্চিমাদের ইঙ্গিত করে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর উদ্দেশে পুতিন বলেন, নব্য-নাৎসিদের সহায়তা করতে তাদের বাবা-দাদারাও কখনও যুদ্ধ করেননি।
পুতিনের ঘোষণার আগে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি সতর্ক করে বলেন, সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তাতে মানবিক দুর্ভোগ বাড়বে। ইউক্রেনে অভিযান থামাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এ কথা
বলেন তিনি।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর রাশিয়া জানায়, রুশ সেনাদের আক্রমণের মুখে ইউক্রেনীয় সেনারা অস্ত্র ফেলে দলবেঁধে পালিয়ে যাচ্ছে। অস্ত্র সমর্পণ করা সেনাদের ওপর কোনো হামলা হয়নি বলে জানায় তারা। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর সৈন্য ও সার্ভিস মেম্বাররা অস্ত্র ফেলে অবস্থান ত্যাগ করছে। যেসব ইউনিট অস্ত্র ফেলে দিচ্ছে, তাদের ওপর কোনো হামলা চালানো হচ্ছে না।
পুতিন বলেন, ইউক্রেনের যেসব সেনা অস্ত্র সমর্পণ করবে, তাদের নিরাপদে যুদ্ধ এলাকা থেকে সরে যেতে দেয়া হবে। রুশ সৈন্যদের হামলায় এখন পর্যন্ত সাতজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।