ইউরোপের বিকল্প জ্বালানি বাজার খুঁজছে রাশিয়া

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ইউক্রেনে রুশ হামলার জেরে ইউরোপসহ পশ্চিমা বিশ্বের একের পর এক নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার তেল-গ্যাসসহ জ্বালানি বাজারে ধস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও উল্টো রাশিয়াও বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ফলে এখন ইউরোপনির্ভরতা কাটিয়ে এশিয়া ও অন্যান্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলের জ্বালানির বাজার ধরার চেষ্টা করছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে জানিয়েছেন, শিগগিরই ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করবে তার দেশ। বিকল্প হিসেবে এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের বাজারগুলোকে এক্ষেত্রে গুরুত্ব দেয়া হবে। খবর: সিএনএন, রয়টার্স

রাশিয়ার জ্বালানি, বিশেষ করে তেল ও কয়লার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞার জবাবে এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে ভাষণে বলেছেন ভøাদিমির পুতিন। তিনি অবশ্য স্বীকার করেছেন, ইউরোপে জ্বালানি পাঠানো বন্ধ করলে তা পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে; পাশাপাশি বলেছেন, প্রতি বছর যে পরিমাণ জ্বালানি, বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাস রাশিয়া ইউরোপে সরবরাহ করে, নিকট ভবিষ্যতে তার আদর্শ বিকল্প উৎস খুঁজে পাবে না ইউরোপ।

বৃহস্পতিবারের ভাষণে পুতিন বলেন, এখন আমাদের (জ্বালানির) বিকল্প বাজার খোঁজা জরুরি। এটি আমাদের মেনে নেয়া উচিত যে, নিকট ভবিষ্যতেই পশ্চিমা দেশগুলোতে আমাদের জ্বালানি সরবরাহ কমিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, এ কারণে এখন বিশ্বের পূর্ব (এশিয়া) ও দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোকে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন আমাদের। সেসব দেশে জ্বালানির চাহিদা বেশ দ্রুতহারে বাড়ছে। তবে এ কাজটি আমাদের করতে হবে ধাপে ধাপে। প্রথম ধাপে ওইসব অঞ্চলে জ্বালানি রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুতে মনোযোগ দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, রাশিয়ার জ্বালানির ওপর ইউরোপ ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ইউরোপের বার্ষিক জ্বালানি গ্যাসের চাহিদার ৪০ শতাংশ সরবরাহ আসে রাশিয়া থেকে। এছাড়া রাশিয়ার কয়লা ও তেলের ওপরও ইউরোপের নির্ভরশীলতা অনেক। সম্প্রতি ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের জেরে রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইউরোপ। এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রাশিয়ার তেল ও কয়লাও রয়েছে। গ্যাসের ওপর যদিও এখনও নিষেধাজ্ঞা দেয়নি ইউরোপ, তবে ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জানিয়েছে, আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি বন্ধ করবে ইউরোপ। 

এ সম্পর্কে পুতিন বলেন, রাশিয়ার পরিবর্তে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি কেনার যে সিদ্ধান্ত ইউরোপ নিয়েছে, তার ফলে পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। নিঃসন্দেহে সেই প্রভাব হবে খুবই যন্ত্রণাদায়ক এবং তার প্রথম ভুক্তভোগী হবে ইউরোপ নিজেই।

তিনি বলেন, রাশিয়া যে দামে ইউরোপে প্রতি বছর জ্বালানি সরবরাহ করে, বিশ্বের অন্য কোনো দেশ বা অঞ্চলের পক্ষে এ মুহূর্তে এ দামে জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব নয়। প্রাথমিকভাবে ইউরোপ জ্বালানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে, তবে যে দামে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে গ্যাস কিনবে তা অনেক বেশি। এতটাই বেশি, যে এ কারণে ইউরোপের সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার মান নেমে যাবে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ সেনাবাহিনী। এ পর্যন্ত চলা অভিযানে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহর দখল করে নিয়েছে রুশ বাহিনী। এছাড়া প্রায় দুই মাসের চলমান অভিযানে কয়েক হাজার ইউক্রেনীয় নাগরিক নিহতের খবর এসছে। হামলা থেকে বাঁচতে ইউক্রেন ছেড়েছেন কয়েক লাখ নাগরিক। জাতিসংঘসহ বিশ্বনেতারা রুশ অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়ে আসলেও পুতিন তাতে কর্ণপাতই করছেন না।