Print Date & Time : 27 April 2026 Monday 11:12 am

ইজিপিপি প্রকল্পে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক

প্রাকৃতিক, জলবায়ুজনিত ও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগের ক্ষতিকর প্রভাব সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী। এটি এমন এক নিরাপদ বেড়াজাল, যার মাধ্যমে সমাজের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষকে বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়। তাই এতে গরিব ও দুস্থদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়।

ন্যূনতম মৌলিক মানবিক চাহিদা যারা পূরণ করতে পারেন না, বিপর্যয় রোধ করতে পারেন না, অর্থাৎ গরিব, বেকার, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী, বিধবা, এতিম ও নির্ভরশীল বয়োজ্যেষ্ঠ নারীপুরুষ ও শিশুরা এই নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় পড়বে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় যারা আছেন, তারা অতিদরিদ্র মানুষ। এখানেও অনিয়ম কারসাজি হলে এই নিরীহ-নিঃস্ব মানুষরাই বঞ্চিত হন। যথানিয়মে এ কর্মসূচির বরাদ্দ কর অর্থ বিতরিত হলে বৈষম্যরোধে সামাজিক নিরাপত্তা খাত অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সরকার হতদরিদ্রদের জীবনমান উন্নয়নে প্রকল্প নিয়েছে। কিন্তু প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের অনিয়ম-দুর্নীতিতে তা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাই এদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

‘চাঁদপুরে ইজিপিপি প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ’ শীর্ষক যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে, তা সরকারের কর্মসূচির অংশ বলা যাবে না।

প্রতিবেদন বলছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন অতিদরিদ্রদের জন্য আত্মকর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পে অভিনব কৌশলে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে চাঁদপরের আট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কতিপয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।

প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ পরিশোধে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে দাখিলকৃত উপকারভোগীদের মোবাইল ফোন নম্বর-সংবলিত তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। ফলে উপকারভোগীদের মোবাইল ফোনে টাকা আসার পর প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই টালবাহানা শুরু করে। এসব কারণে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া কাজ করেও টাকা পাননি এমন অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগী অনেকেই।

অভিযুক্তরা দায় এড়িয়ে গেছেন; বলেছেন, ‘সব ইউএনও জানেন।’ ইউএনও বদলি হয়ে যাওয়ায় তার বক্তব্য নিতে পারেননি আমাদের প্রতিনিধি। তবে ইউএনও বদলি হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

আমাদের প্রতিটি জাতীয় বাজেটেই সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ থাকে। কিন্তু স্বচ্ছতা ও জাবাবদিহি না থাকায় নিরাপত্তা বেষ্টনীর সহায়তা পান না অতিদরিদ্ররা। সরকার সামাজিক সুরক্ষা খাতে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করে। এ অর্থে যাতে প্রকৃত দরিদ্র, দুস্থ, অসহায় মানুষের উপকার হয়, তা নিশ্চিত করা একান্ত জরুরি। অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার কারণে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি উদ্দেশ্য পূরণে সক্ষম হয় না। শুধু বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, অর্থের সদ্ব্যবহার নিশ্চিতেও সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।