ইলন মাস্ক ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ সুবিধা পাবেন

রয়টার্সের বিশ্লেষণ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আগেভাগেই সমর্থন দিয়েছেন ইলন মাস্ক। এখন ওই সমর্থন ধনকুবের এ উদ্যোক্তাকে এক ব্যতিক্রমী প্রভাব এনে দেবে, যা তার প্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারের আনুকূল্য পাওয়া নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। ফেডারেল হিসাব বলছে, ট্রাম্প-সমর্থক এক গোষ্ঠীকে নির্বাচনী প্রচার বাবদ মাস্ক অন্তত ১১৯ মিলিয়ন (১১ কোটি ৯০ লাখ) ডলার দিয়েছেন। এছাড়া ট্রাম্পের প্রচারকার্যে বিভিন্ন সময় সশরীর অংশ নিয়েছেন।

পেনসিলভানিয়ায় গত ১৩ জুলাই এক নির্বাচনী সমাবেশে হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে যান ট্রাম্প। ওই সময় গুলি তার কানে লাগে। সেই দিনই ট্রাম্পকে সমর্থন করার ঘোষণা দেন টেসলার প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে জো বাইডেন সরে দাঁড়ালে কমলা হ্যারিস তার স্থলাভিষিক্ত হন। এতে নির্বাচনে কমলার সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েন ট্রাম্প। এমনই একটি সময় ট্রাম্পের পাশে এসে দাঁড়ান মাস্ক। বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেন ট্রাম্পের প্রচারশিবিরকে। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে নির্বাচনের রাতে মাস্ক ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো ক্লাবে কাটিয়েছেন। ট্রাম্পও বলেছেন, তিনি মাস্ককে তার প্রশাসনের ‘দক্ষতার সম্রাট’ বলে ডাকবেন। মাস্কের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার সুদূরপ্রসারী কৌশলেরই প্রতিফলন ঘটেছে। এর মাধ্যমে তিনি চান তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মকানুন ও বিধিনিষেধের বেড়াজাল থেকে আড়ালে রাখতে। ট্রাম্পের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে মাস্ক তার প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে পূর্ণ সুবিধা আদায় করবেন।

মাস্কের ব্যবসায়িক স্বার্থ-টেসলা বৈদ্যুতিক যান থেকে শুরু করে স্পেসএক্স রকেট ও নিউরালিংক ব্রেন চিপ সরকারি নিয়মকানুন, ভর্তুকি সুবিধা বা নীতির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। স্পেসএক্সের শীর্ষস্থানীয় একজন সাবেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিদ্যমান সব নিয়মকানুনকে মাস্ক তার ব্যবসা ও উদ্ভাবনের পথে বাধা হিসেবে দেখে থাকেন। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তার প্রশাসনকে মাস্ক ওই সব নিয়মকানুন বা বিধিনিষেধ কাটানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবেন, যাতে যা ইচ্ছা তিনি তা করতে পারেন।
সরকারি নিয়মনীতির কাটছাঁট মঙ্গলে স্পেসএক্সের পাড়ি জমানোর প্রচেষ্টা বেগবান করবে। মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রকে একটি স্টার্টআপের মতো কাজ করাতে চলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ইলন মাস্কের মতো সেরা উদ্যোক্তা আর নেই।