নিজস্ব প্রতিবেদক : পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বলেছেন, পৃথিবীতে ইসলাম ধর্মের বিপক্ষে বিরাট অপপ্রচার আছে। ইসলাম মানেই জঙ্গি, এটা প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে। কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয়েছে ইসলাম ও মুসলমানদের।
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অ্যান্টি–টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) ‘ইসলামের দৃষ্টিতে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইজিপি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে এন্টি টেররিজম ইউনিটের প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি মোঃ কামরুল আহসান সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে এ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
আইজিপি বলেন, ‘আমাদের তো খুব বেশি ইসলামিক বই পড়ার সুযোগ ছিল না। আবার আমরা আরবি বই সবাই পড়তেও পারি না। এখন অনেক বাংলা বই বের হয়েছে।’
ইসলামের নাম ব্যবহার করে গণহত্যা চালিয়ে ইসলাম ও মানুষকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন আইজিপি। তিনি বলেন, ‘ধর্মকে পুঁজি করে যারা হত্যা খুন করছে, তাদের প্রতিরোধ করতে হবে। জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তবেই এই রোগ থেকে মুক্তি পাব।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে যত্রতত্র ইসলামিক বক্তব্য প্রচার না করে মডারেটর থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন আইজিপি। তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে দায়েশ, আইএস, আল–কায়েদা, আইসিস–এর নামে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এসব সংগঠন কারা পয়দা করল, অর্থ, সংগঠন, অস্ত্র কোথায় থেকে এল? সেটা সবাই জানি।’
হোলি আর্টিজানে হামলার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স নীতির কারণে জঙ্গিবাদের ঝামেলা চুকানো সম্ভব হয়েছে বলেন আইজিপি। তিনি বলেন, ‘যখন হোলি আর্টিজানের ঘটনা ঘটে, তখন অনেক দ্রুত অনেক কিছু করা হয়েছে, মুহূর্তের মধ্যে বিদেশি দূতাবাস ভয়ংকর পরিস্থিতি হিসেবে উপস্থাপন করেছে। কারা আসতে পারবে, কে আসতে পারবে না! ভয়াবহ চিত্র তখন। অনেক বিদেশি তাঁদের পরিবার-পরিজনকে দেশে পাঠিয়েছেন। অনেক দেশ কার্গো বিমান চলাচল বন্ধ করেছিল। যদি আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঝামেলা মেটাতে না পারতাম, তাহলে চিটাগং বন্দরও বন্ধ হয়ে যেতে পারত। মিডিয়ার অপরিসীম ভূমিকা আছে।’
পুলিশ প্রধান বলেন, ‘তুষ্টির সুযোগ নেই। এখনো হুমকি আছে। সারা বিশ্ব থেকে হুমকি চলে গেলেও বাংলাদেশে থাকবে। কারণ, এখানে হুমকি থাকলেই চাপ তৈরি করা যায়।’
গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইএস নামক সংগঠনের নামে জঙ্গিবাদ বাংলাদেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে এবং হলি আর্টিজান হামলার মাধ্যমে তা চূড়ান্ত রুপ লাভ করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ এবং বাংলাদেশের জনগণের সর্বাত্বক সহযোগিতায় আমরা জঙ্গিবাদকে দমন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ দমনে অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। এটিইউ কর্তৃক প্রকাশিত বইটি জঙ্গিবাদ দমনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, ইসলামে উগ্রবাদের কোন স্থান নেই। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশে আমরা সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে এক সাথে বসবাস করি। বাংলাদেশে উগ্রবাদ জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই। বইটি বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হলে বিভিন্ন দেশের মানুষ উপকৃত হবে।