সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: ঈদের ছুটির কারণে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার খালাস হয়েছে মাত্র ৭০৫ টিইইউএস। মূলত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও আমদানি কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট অংশীজন প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় কনটেইনার সরবরাহ কম হয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে কয়েকদিন ব্যবধানে নতুন করে আরও তিন হাজার ৬১৩ কনটেইনার সংখ্যা বেড়েছে। যদিও জাহাজ থেকে আমদানিবাহী ও বন্দর থেকে রপ্তানি পণ্যবাহী ও খানি কনটেইনার জাহাজে তোলাসহ অন্যান্য বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটির মধ্যেও পুরোপুরি চালু ছিল চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম। এতে স্বাভাবিক সময়ের মতো জাহাজ ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং চলছে। গতকাল বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙরে ৪৭টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম হয়েছিল। অন্যদিকে ৪৬টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এর মধ্যে নয়টি কনটেইনারবাহী জাহাজ থেকে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। একই সময়ে বহির্নোঙরের ২৫টি জাহাজ থেকে আমদানি পণ্য খালাস হয়েছে। আর জেটি খালি হলেই ভিড়ছে নতুন জাহাজ। তবে ঈদের আগে কনটেইনার ডেলিভারি স্বাভাবিক থাকলেও ঈদের দিন থেকে তা মারাত্মক হারে কমে যায়। ঈদের ছুটিতে মাত্র আমদানি পণ্যবোঝাই ৭০৫টি কনটেইনার খালাস হয়েছে। এর সবগুলোই খালাস হয়েছে গতকাল। বাকি দুদিন কোনো কনটেইনার খালাস হয়নি। অথচ স্বাভাবিক সময়ে দিনে প্রায় পাঁচ হাজার পণ্যবোঝাই কনটেইনার বন্দর থেকে খালাস হয়। এ কারণে বন্দর ইয়ার্ডে কয়েকদিন ব্যবধানে তিন হাজার ৬১৩ টিইইউএস কনটেইনার বেড়েছে।
গতকাল দুপুর পর্যন্ত ৩৯ হাজার ৪১১ কনটেইনার বন্দরে পড়ে ছিল; যা গত ২৮ এপ্রিলে ছিল ৩৫ হাজার ৭৯৮ কনটেইনার। অন্যদিকে গতকাল জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে চার ৬৬ কনটেইনার এবং রপ্তানি ও খালি কনটেইনার জাহাজে তোলা হয় চার ৩৯৪টি কনটেইনার। অর্থাৎ গতকাল বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল আট হাজার ৪৬০ কনটেইনার।
বন্দর ব্যবহারকারীরা বলেন, চলতি সপ্তাহে কনটেইনার পরিবহনে গতিশীল হবে। মূল ঈদের কারণে কনটেইনার ডেলিভারি নেয়া হয়নি। আগামীকাল থেকে ব্যাংকসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে। সুতরাং আগের মতো স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে। যদিও বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং স্বাভাবিক আছে। এর মধ্যে শিপিং এজেন্টরা রপ্তানি পণ্যের নতুন কনটেইনার বুকিং নেয়া শুরু করছে। আজ থেকে ঈদ ছুটি কাটিয়ে শ্রমিকরা কারখানায় কাজে ফিরেছেন। এসব কারণে রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার জাহাজীকরণ বাড়বে। একই সঙ্গে আমদানি পণ্য কনটেইনার খালাসও বাড়বে।
এ বিষয়ে জানার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ও মুখপাত্র ওমর ফারুকের ব্যবহƒত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংযোগটি রিসিভ করেননি। ফলে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।