দুই মাসে সর্বনিন্ম লেনদেন

উত্থানেও লেনদেন কমে ৪০০ কোটির ঘরে

নিজস্ব প্রতিবেদক:দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবারের লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে আগের দিনের তুলনায় টাকার অঙ্কে লেনদেন কমে ৪০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে, যা দুই মাসের মধ্যে সর্বনিন্ম লেনদেন। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত ছিল। গতকাল সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকায় ও কেনার চাপ বেশি থাকায় শেয়ারদর বেশি বেড়েছে আইটি খাতের। অপরদিকে এদিন বিনিয়োগকারীরা বিমুখ ছিলেন ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের শেয়ারে। এতে আলোচ্য খাতটিতে শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি কমেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল আইটি খাতের শেয়ারদর বেড়েছে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ। এদিন খাতটিতে মোট ১১টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া শেয়ারের মধ্যে ৭টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, ১টির দর কমেছে এবং বাকিগুলোর দর অপরিবর্তিত ছিল। দ্বিতীয় স্থানে ছিল বিমা খাতের শেয়ার। খাতটিতে দর বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ। শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ শেয়ারদর বেড়ে তৃতীয় স্থানে ছিল কাগজ ও মুদ্রণ খাত। এছাড়া টেলিকমিউনিকেশন, ব্যাংক, ওষুধ ও রসায়ন, বস্ত্র, প্রকৌশলী এবং আর্থিক খাতে শেয়ারদর বৃদ্ধির বা কমার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এদিকে গতকাল বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপ থাকায় ভ্রমণ খাতের শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি কমেছে। খাতটিতে শেয়ারদর কমেছে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ। পরের স্থানে থাকা সিরামিক খাতে শেয়ারদর কমেছে শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশ। মিউচুয়াল ফান্ড খাতে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ শেয়ারদর কমে তৃতীয় স্থানে ছিল।

অপরদিকে গতকাল লেনদেনের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বিমা খাতে। খাতটিতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১১ দশমিক ২০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১০ দশমিক ১০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। ৮ দশমিক ২০ শতাংশ লেনদেন হওয়া বিবিধ খাত রয়েছে চতুর্থ স্থানে।

ডিএসইর তথ্য মতে,  দিনভর সূচক ওঠানামার মধ্য দিয়ে গতকাল বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে। দিন শেষে বাজারে ৩৪০ প্রতিষ্ঠানের মোট ৭ কোটি ৮৮ লাখ ৬৮ হাজার ৭৩১ শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা হয়েছে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৬৫ কোটি ৭ লাখ ২৬ হাজার টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭২৩ কোটি ৩৩ লাখ ৫ হাজার টাকা অর্থাৎ দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে। এর আগে গত ১৭ এপ্রিল ৪৪৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ৮৯টির, কমেছে ৬২টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম।

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৫ দশমিক ২৫ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ২৮০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইর অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ দশমিক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩৬৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই৩০ সূচক ১ দশমিক ৪২ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৮২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক ১২ পয়েন্ট বেড়ে ১৮ হাজার ৫৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন সিএসইতে ২১০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৫৩টির, কমেছে ৫৪টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১০৩টির দাম।

দিন শেষে সিএসইতে ১৪ কোটি ৬২ লাখ ৬৮ হাজার ৭১৪ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১২ কোটি ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৯১ টাকার শেয়ার।