নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে গতকাল রোববার লেনদেন শেষ হয়েছে। সেই সঙ্গে আগের দিনের তুলনায় টাকার অঙ্কে লেনদেন বেড়ে ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত ছিল। গতকাল সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সূচক উত্থানে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও কেনার চাপ বেশি ছিল বিমা খাতে। ফলে এদিন আলোচ্য খাতটিতে দর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। অপরদিকে এদিন বিনিয়োগকারীদের বিমুখ ও শেয়ার বিক্রির চাপ বেশি ছিল শুধু দুই খাতে। ফলে আলোচ্য খাত দুটির দর সবচেয়ে বেশি কমেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল বিমা খাতের শেয়ারদর বেড়েছে ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। এদিন খাতটিতে মোট ৫৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া শেয়ারের মধ্যে ৪৬টির দর বেড়েছে এবং একটির দর কমেছে। দ্বিতীয় স্থানে ছিল সেবা ও আবাসন খাতের শেয়ার। খাতটিতে শেয়ারদর বেড়েছে ২ দশমিক ৩০ শতাংশ। ১ দশমিক ৬০ শতাংশ শেয়ারদর বেড়ে তৃতীয় স্থানে ছিল ভ্রমণ ও অবকাশ খাত। গতকাল টেলিকমিউনিকেশন, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, সিরামিক, প্রকৌশলী এবং আর্থিক খাতে শেয়ারদর বৃদ্ধির বা কমার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এদিকে গতকাল বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপ থাকায় বিবিধ এবং ব্যাংক খাতের শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি কমেছে। খাত দুটিতে শেয়ারদর কমেছে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ করে।
অপরদিকে গতকাল লেনদেনের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বিমা খাতে। খাতটিতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২০ দশমিক ৭০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ৯ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। আট শতাংশ লেনদেন হওয়া বিবিধ খাত রয়েছে চতুর্থ স্থানে।
ডিএসইর তথ্যমতে, রোববার বাজারে লেনদেন হওয়া ৩৩২টি কোম্পানির মধ্যে ৩৫টির শেয়ারের দাম কমেছে। বেড়েছে ১২২টি কোম্পানির শেয়ার। অর্থাৎ দাম কমার বিপরীতে বেড়েছে তিনগুণের বেশি কোম্পানির শেয়ারের। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭৫ কোম্পানির শেয়ার। তাতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১২ দশমিক ১০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩১১ পয়েন্টে। ডিএসইর অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস শরিয়াহ্ সূচক ১ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭৩ পয়েন্টে। আর ডিএস-৩০ সূচক ৫ দশমিক ১৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৪৬ পয়েন্টে।
এদিন ৩৩২ প্রতিষ্ঠানের ১২ কোটি ৪২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫২টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে, যা টাকার অঙ্কে ৬১০ কোটি ৬৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৫৬ কোটি ১৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। আগের দিনের চেয়ে লেনদেন বেড়েছে।
ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল ফু-ওয়াং ফুডের শেয়ার। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের শেয়ার। তৃতীয় অবস্থানে ছিল ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার। এর পরের তালিকায় যথাক্রমে ছিল খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ, সিমটেক্স লিমিটেড, জেমিনি সি ফুড, রূপালী লাইফ, এমারেল্ড অয়েল, নাভানা ফার্মাসিটিউক্যালস, ড্যাফোডিল কম্পিউটার লিমিটেডের শেয়ার।
অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক ৩০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬৬৩ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৭০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৭৩টির, কমেছে ২১টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৬টির দাম।
দিন শেষে সিএসইতে ১২ কোটি ৩০ লাখ ২৪ হাজার ৮৮৫ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর আগের লেনদেন হয়েছিল ১৮ কোটি ৩৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।