‘মেট্রোরেল-১ নির্মাণে ভাঙতে হবে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ের অনেক স্থান’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে। বারবার ভুল প্রকল্পের কারণে রাষ্ট্রে হাজার কোটি টাকা অপচয় হয়েছে গত দেড় দশকে। এখন পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে ভাঙার খবরে বিশ্লেষকরা নিশ্চয়ই বলবেন এখনও ভুলের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি আমরা।
মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তাতে কিছু ব্যাখ্যাও দেয়া হয়েছে। আমাদের প্রতিবেদনের তথ্য, বিষয়টি রাজউকের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও মেট্রোরেল পরামর্শকের পারস্পরিক সমন্বয় ও সমঝোতার মাধ্যমেই চূড়ান্ত হয়েছে এবং সেই মোতাবেক মেট্রোরেলের ডিজাইন করা হয়েছে। দেশের অন্যতম ব্যয়বহুল বিশেষ করে উন্নয়ন সহযোগীদের সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পের তদারকি ও মূল্যায়ন কাজে নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগেরও (আইমএইডি) সংশ্লিষ্টতা আছে বলেই ধারণা।
আমাদের মনে আছে এর আগে বাস্তবায়িত অনেক প্রকল্প ভুল পরিকল্পনায় শুরু করা হয়েছিল। সে জন্য রাষ্ট্রকে অনেক মাশুল দিতে হয়েছে।
আমাদের বড় প্রকল্পগুলো এমনিতেই ব্যয়বহুল ও উচ্চাভিলাষী। এর ওপর বেশিরভাগ প্রকল্প, যেমন ফ্লাইওভার, সেতু ও অবকাঠামোর নির্মাণব্যয় বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি। এর মধ্যে যৌক্তিক-অযৌক্তিক উভয় কারণই রয়েছে। অনেক প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হয় না। এতে নির্মাণব্যয় বাড়ে এবং অতিরিক্ত বরাদ্দ দিতে হয়। প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণেও সময়ক্ষেপণ হয়, তাতে ব্যয়ও বাড়ে। কিন্তু কোনো প্রকল্প ভুল পরিকল্পনায় নির্মিত হলে শুধু রাষ্ট্রের অর্থই অপচয় হয় না, সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়ে। বারবার ভুল হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বারবার ভুল হওয়া মানে আগের ভুল থেকে শিক্ষা নেয়া হয়নি এবং এ প্রশ্নও ওঠে যে, অপচয়ের নামে পরিকল্পিতভাবে অর্থ লোপাট হচ্ছে কি না। প্রায়ই শোনা যায়, ভুল পরিকল্পনা ও নকশাগত নানা ত্রুটিতে বিভিন্ন প্রকল্পের মেয়াদ ও নির্মাণব্যয় বাড়ানো হয়েছে কয়েক দফা।
ভুল পরিকল্পনায় নির্মাণব্যয় বেড়ে যাওয়ার অন্যতম দৃষ্টান্ত রাজধানীর মালিবাগ-মগবাজার ফ্লাইওভার। কিছু কাজ করার পর দেখা গেল, বাঁয়ে স্টিয়ারিংবিশিষ্ট গাড়ির কথা মাথায় রেখে ফ্লাইওভারটি নকশা করা। অথচ বাংলাদেশে যন্ত্রচালিত সব যান ডানে স্টিয়ারিংবিশিষ্ট। তবে কিছু কাজ হয়ে যাওয়ায় ভুল পরিকল্পনাতেই নির্মাণ করতে হয় ফ্লাইওভারটি। এতে নির্মাণব্যয় ও জনদুর্ভোগও বেড়ে যায় অনেক। ভুল পরিকল্পনায় নির্মিত প্রকল্পে গত ১৮ বছরে রাষ্ট্রের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সেটি যাচাই করা প্রয়োজন। কার গাফিলতিতে হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে; তা জানার অধিকার আছে জনগণের। জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা থাকলে এত রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় কিংবা লোপাট হতো না। দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি হলে প্রকল্প নতুন করে ভুল পরিকল্পনায় আক্রান্ত হতো না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করলে মানসম্পন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামো নির্মাণ সম্ভব। পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে যতটা সম্ভব কম অংশ ভেঙে মেট্রোরল-১ নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।




