মো. রাহাতুল ইসলাম : বাংলাদেশের জীবন বিমা খাতের কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকের শেয়ার ধারণে সবচেয়ে শীর্ষে রয়েছে চার্টার্ড ও ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এর বিপরীতে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
শেয়ার ধারণের প্রবণতা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ার ধারণে চার্টার্ড ও
ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা প্রায় ৬০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করেছেন। এর বিপরীতে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এই কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা মাত্র ২৩ দশমিক ৭০ শতাংশ নিজেদের হাতে রেখেছেন।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১৫টি জীবন বিমা কোম্পানির মধ্যে চার্টার্ড, ট্রাস্ট ইসলামী, ন্যাশনাল লাইফ ও সোনালী লাইফ, এই চার কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা ৫০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করেছেন। এর বাইরে ডেল্টা লাইফ ও প্রগতি লাইফের উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা ৪০ শতাংশের বেশি শেয়ার নিজেদের হাতে রেখেছেন। আর বাকি আটটি কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে ৪০ শতাংশের কম শেয়ার রয়েছে। আর বিদ্যমান নির্দেশনা মেনে ৩০ শতাংশের কম শেয়ার ধারণ করেছেন সন্ধানী ও পুপলার লাইফের পরিচালকরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সংখ্যা ও শেয়ার ধারণ বেশি হলে সেই কোম্পানিতে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা বেশি থাকে। সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় কোম্পানিটি এগিয়ে গেলে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ার ধারণের প্রবণতা বেড়ে যায়। আর কোম্পানি পিছিয়ে পড়লে বা কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব-সংঘাত হলে তখন অনেকে শেয়ার বিক্রি করে চলে যায়। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। রাজনৈতিক সুবিধা নেয়া কোম্পানি সন্ধানী লাইফ ও মালিকানা-অনিয়ম ইস্যুতে বিতর্কে থাকা পপুলার লাইফের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের অনেকেই শেয়ার বিক্রি করে চলে গেছেন। আর বর্তমান সময়ে ব্যবসায়িকভাবে পিছিয়ে থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ার ধারণ তুলনামূলক কম।
তথ্যমতে, চার্টার্ড লাইফ ও ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা মোট শেয়ারের ৬০ শতাংশ নিজেদের হাতে রেখেছেন। ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা ৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা ৫৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ শেয়ার ধারণ করেছেন।
এদিকে ডেল্টা লাইফের ৪১ শতাংশ, প্রগতি লাইফের ৪০ দশমিক ৬২ শতাংশ, প্রগ্রেসিভ লাইফের ৩৮ দশমিক ৮২ শতাংশ, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ৩৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ, প্রাইম ইসলামী লাইফের ৩৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ, সানলাইফের ৩৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ, রূপালী লাইফের ৩২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, পদ্মা ইসলামী লাইফের ৩১ দশমিক ৫৬ শতাংশ, মেঘনা লাইফের ৩০ দশমিক ১১ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে।
আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই জীবন বিমা কোম্পানির উদ্যোক্তা এবং পরিচালকরা শেয়ার ধারণে ব্যর্থ হয়েছেন। যার মধ্যে সন্ধানী লাইফের উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা ২৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ ও পপুলার লাইফের উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা মাত্র ২৩ দশমিক ৭০ শতাংশ নিজেদের হাতে রেখেছেন।
জীবন বিমা খাতে পরিচালকদের উচ্চ শেয়ার ধারণ সাধারণত দুটি বিষয় নির্দেশ করে। প্রথমত, এটি কোম্পানির প্রতি পরিচালকদের আস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে। দ্বিতীয়ত, এটি তাদের হাতে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত করে, যা কখনও কখনও ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা বা করপোরেট সুশাসন সম্পর্কিত প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে। বিনিয়োগকারীদের জন্য, পরিচালকদের শেয়ারের উচ্চ শতাংশ একটি কোম্পানির স্থিতিশীলতা এবং ধারাবাহিক পরিচালনার ইঙ্গিত দিতে পারে, তবে এর সঙ্গে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত।
