Print Date & Time : 30 August 2025 Saturday 7:01 pm

এস আলমের বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে পোস্ট: প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম হাইকোর্টে স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারার এস আলমের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (এসএস পাওয়ার) নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে করা মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। মামলাটি বাতিল চেয়ে প্রকৌশলীর করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার রুলসহ এ আদেশ দেন।  

আবেদনকারীর আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারায় নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক এসএস পাওয়ার ১ লিমিটেড নিয়ে ফেসবুকে ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ ও ‘আক্রমণাত্মক’ পোস্ট দেওয়ায় অভিযোগে প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ২৭ মে বাঁশখালী থানায় মামলাটি করা হয়। মামলাটি করেন এস আলম গ্রুপের বাঁশখালী প্রকল্পের তৎকালীন চিফ কো–অর্ডিনেটর ফারুক আহমেদ। মামলায় শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫, ২৯ ও ৩১ ধারার অভিযোগ আনা হয়। এই মামলায় ওই দিনই শাহনেওয়াজ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই মামলায় ২০২১ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামের আদালত থেকে তিনি জামিন পান।

এ মামলায় গত বছরের ১৭ মে প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনাল। এ অবস্থায় মামলাটির কার্যক্রম বাতিল চেয়ে গত বছরের ৬ জুলাই হাইকোর্টে আবেদনটি করেন শাহনেওয়াজ। আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আল নোমান।

পরে আইনজীবী আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘শাহনেওয়াজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা ওই মামলার কার্যক্রম কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।’

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে দায়ের করা এ মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছিল, ‘ইঞ্জিনিয়ার শাহনেওয়াজ চৌধুরী তার ফেসবুক আইডি থেকে গন্ডামারায় নির্মাণাধীন এসএস পাওয়ার লিমিটেডের প্রতি এলাকার মানুষের ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি করতে লোকজনকে প্ররোচিত করেছেন।’

এর আগে ওই বছর ১৭ এপ্রিল বাঁশখালীর গন্ডামারায় পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাত শ্রমিক মারা যান। তাদের মধ্যে ঘটনার দিন নিহত হন পাঁচ জন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে আরও দুই জন মারা যান। নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ, পবিত্র রমজানে কর্ম-ঘণ্টা কমানোসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে বিক্ষোভ করেছিলেন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজের শ্রমিকেরা।