নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে কভিডে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এক দিনে। নমুনা পরীক্ষা বাড়ায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও কিছুটা বেড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববতী ২৪ ঘণ্টায় চার হাজার ৭৬১টি নমুনা পরীক্ষা করে ৬৫৬ জনের শরীরে কভিডের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আগের দিন তিন হাজার ৯৫২টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫২১ নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল এবং সারাদেশে তিনজনের মৃত্যুর খবর এসেছিল। গত এক দিনে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার বেড়ে হয়েছে ১৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ, আগের দিন এই হার ১৩ দশমিক ১৮ শতাংশ ছিল। নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে শনাক্ত মোট কভিড রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১৯ লাখ ৯১ হাজার ৩১ হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৯ হাজার ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনাভাইরাসে।
গতকাল এক হাজার ৫৪২ কভিড রোগীর সেরে ওঠার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হলেন ১৯ লাখ ১৫ হাজার ৮৬০ জন। নতুন শনাক্ত ৬৫৬ জনের মধ্যে ৫৭৬ জনই ঢাকা জেলার বাসিন্দা। দেশের মোট ১৩ জেলায় মঙ্গলবার নতুন রোগী ধরা পড়েছেন। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৪৩টি এলাকায় মঙ্গলবার কারও নমুনাই পরীক্ষা করা হয়নি। অথচ ঈদের ছুটির আগে দেশের সব জেলায়ই পরীক্ষার জন্য নমুনা আসছিল।
মঙ্গলবার মারা যাওয়া সাতজনই ছিলেন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। এছাড়া চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন চার পুরুষ ও পাঁচ নারী। একজনের বয়স ছিল ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, দুজনের বয়স ছিল ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, বাকি সবার বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি।
সার্স ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের দাপট কমলে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হাজারের নিচে নেমে আসে। ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে একপর্যায়ে ২৬ মার্চ তা একশর নিচে নামে। কিন্তু গত ২২ মের পর থেকে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আবারও বেড়ে যায়। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ব্যাপক বিস্তারের মধ্যে গত বছরের ২৮ জুলাই দেশে রেকর্ড ১৬ হাজার ২৩০ নতুন রোগী শনাক্ত হন। প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার ১০ দিন পর ২০২০ সালের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২০২১ সালের ৫ আগস্ট ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যুর খবর আসে, যা মহামারির মধ্যে এক দিনের সর্বোচ্চ সংখ্যা। বিশ্বে কভিডে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৬৩ লাখ ৫৩ হাজারের বেশি মানুষ। বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত রোগী ছাড়িয়েছে ৫৫ কোটি ৬৫ লাখের বেশি।