নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীতে কভিড-১৯ টিকার বুস্টার ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে। ষাটোর্ধ্ব ও ফ্রন্টলাইনাররা বুস্টার ডোজ পাচ্ছেন। বুস্টার ডোজ হিসেবে ফাইজারের টিকা দেয়া হচ্ছে এখন। তবে এসএমএস পেয়েও প্রথম দিন টিকা নিতে অনেকে আসেননি। আর মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বুস্টার ডোজ দেয়া শুরুই হয়নি।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ২০০ জনকে বুস্টার ডোজ নেয়ার জন্য এসএমএস পাঠানো হলেও তাদের মধ্যে গতকাল ১০০ জন টিকা নিয়েছেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. আশরাফুল হক বলেন, ‘টিকা নিতে ইদানীং মানুষের আগ্রহ কিছুটা কম। এখন প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নিতেও আগ্রহ কিছুটা কম দেখছি। বুস্টার ডোজের ব্যাপারেও তাই হচ্ছে। যাদের এসএমএস যাওয়ার পরও টিকা নেননি, তারা পরেও টিকা নিতে পারবেন।
শ্যামলীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল থেকে এক হাজার মানুষকে এসএমএস পাঠানো হলেও গতকাল বেলা পৌনে ৩টা পর্যন্ত ৪৫০ জন বুস্টার ডোজ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বুস্টার ডোজ দেয়ার প্রস্তুতি থাকলেও বেলা ১২টা পর্যন্ত সেখানে কেউ টিকা নিতে যাননি। সকালে কয়েকজন নার্সকে টিকা দেয়া হয়।
হাসপাতালের উপ-পরিচালক মো. সাইদুজ্জামান বলেন, ‘বুস্টার ডোজ দেয়ার সব প্রস্তুতি আছে। ফ্রন্টলাইনার ও ষাটোর্ধ্ব সবাইকে সিরিয়াল অনুযায়ী এসএমএস পাঠানো হবে। নির্ধারিত দিনে এসে টিকা নিতে হবে, এখানে প্রবাসীদের টিকা দেয়া হচ্ছে, সেই কার্যক্রম চালু থাকবে, সঙ্গে বুস্টার ডোজও চালু থাকবে।’
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল টিকাদান কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বেলা সোয়া ১২টা পর্যন্ত ১০২ জনকে বুস্টার ডোজ দেয়া হয়েছে।
জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের টিকাদান কেন্দে ও সকাল থেকে টিকার তৃতীয় ডোজ দেয়া শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ১৬ জন বুস্টার ডোজ নিয়েছেন।
বুস্টার ডোজ নেয়ার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রথম দিন ৬০০ জনের মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠানো হয়েছিল।
মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. নিয়াতুজ্জামান জানিয়েছেন, হাসপাতালে গতকাল বুস্টার ডোজ দেয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) থেকে এসএমএস পাঠানো শুরু হয়েছে, টিকা দেয়া হবে আজ থেকে। আমরা টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু আমাদের কম্পিউটার থেকে যাদের বয়স ৬০ বছরের বেশি এবং ফ্রন্টলাইনার তাদের খুঁজে বের করতে হবে। তাদের সর্টিং করতে কিছুটা সময় লাগছে। একটু সময় নিতে হবে।’
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কভিড টিকার সুরক্ষা দুর্বল হয়ে আসায় কিছু দেশ বাড়তি আরেক ডোজ টিকা দিচ্ছে নাগরিকদের, যাকে বলা হচ্ছে বুস্টার ডোজ। এর মধ্যে করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন গোটা বিশ্বেই অপ্রত্যাশিত গতিতে ছড়িয়ে পড়ায় সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
বলা হচ্ছে, দুই ডোজ টিকায় ওমিক্রন ঠেকানো সম্ভব নয়, দরকার আরও একটি ডোজ। সেজন্য বাংলাদেশেও বুস্টার ডোজ দেয়ার পরামর্শ দেয় কভিড-১৯-সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।
যাদের বয়স ৬০ বছরের বেশি এবং যারা কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে রয়েছেন, তাদেরই এখন করোনাভাইরাসের টিকার বুস্টার ডোজ দেয়া হচ্ছে।
দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার অন্তত ছয় মাস পেরিয়েছে, এমন ব্যক্তিরা তৃতীয় ডোজ পাচ্ছেন। সেজন্য নতুন করে নিবন্ধন করতে হচ্ছে না। যারা তৃতীয় ডোজ পাওয়ার যোগ্য, তাদের কাছে এসএমএস চলে যাচ্ছে।
গত ১৯ ডিসেম্বর মহাখালীর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএসএ) মিলনায়তনে পরীক্ষামূলকভাবে বুস্টার ডোজ দেয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।
দেশে টিকার প্রথম ডোজ দেয়া শুরু হয়েছিল চলতি বছর ৮ ফেব্রুয়ারি। ১০ মাসের বেশি সময় পর তৃতীয় ডোজ দেয়া শুরু হলো।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ১২ কোটি ১৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩৯ ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। প্রথম ডোজ নিয়েছেন সাত কোটি ১৭ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৩ জন, যা মোট জনসংখ্যার ৪২ শতাংশের বেশি। পূর্ণ ডোজ পেয়েছেন চার কোটি ৯৫ লাখ ৭৫ হাজার ৯৯৬ জন। এ সংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার ২৯ শতাংশের বেশি।