Print Date & Time : 31 August 2025 Sunday 12:52 am

কর প্রদান সহজ করতে যৌক্তিক দাবি মেনে নিন

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পর বাংলাদেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে বাড়তি রাজস্বের প্রয়োজন হবে। অতিরিক্ত রাজস্বের লক্ষ্য অর্জন করতে কর পরিশোধ পদ্ধতি সহজ করার জন্য জাতীয় রাজস্ব অধিদপ্তরকে (এনবিআর) আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর ফেডারেশন এফবিসিসিআই। বাংলাদেশের ভ্যাট ব্যবস্থাপনার অবকাঠামোগত সংস্কার ও ভ্যাটের প্রবৃদ্ধির সম্ভাব্যতা যাচাইপূর্বক প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়নের নিমিত্তে এনবিআরের গঠিত কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বৃহস্পতিবার এ আহ্বান জানানো হয়।

এফবিসিসিআই’র আহ্বানে সাড়া দিয়ে অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় করে সিদ্ধান্ত নিলে তা সময়োপযোগী হবে বলে আমরা মনে করি। উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। সে লক্ষ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। অভ্যন্তরীণ সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব কর ব্যবস্থাপনা ও ট্যারিফ যৌক্তিকীকরণ এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে মনোযোগ বাড়াতে হবে।

করযোগ্য ব্যক্তিদের উৎসাহিত করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। মূসক আদায় ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করা গেলে করদাতারা হয়রানির শিকার হবেন না। সবাই সমান সুযোগ পাবেন। তাদের কর আদায়ে গতি আসবে।

ব্যবসায়ী নেতারা বলেছেন, প্রান্তিক পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের কম্পিউটার-ডিভাইস ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এনবিআর বিনা খরচে মোবাইল অ্যাপ তৈরি করে দিলে ভ্যাটের অটোমেশন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন সহজ হবে। আমরাও মনে করি, এটি করা গেলে ঘরে বসেই করদাতা মূসক ও রাজস্ব জমা দিতে পারবেন।

কর আদায় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে নাগরিকদের মধ্যেও দায়িত্ববোধ জাগ্রত হবে। তখন তারাও স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে যথানিয়মে সব ধরনের কর দেবেন। নাগরিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন পন্থায় কর ও মূসক সংগ্রহ করে রাষ্ট্র। সংগ্রহ পদ্ধতির সীমাবদ্ধতার দায় করদাতাদের ওপর না চাপিয়ে এনবিআর কর্মীদেরও প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।

আমাদের দেশে বেশিরভাগ করযোগ্য ব্যক্তি কর প্রদান থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন। তাদের ধারণা, কর দেয়া মানে হয়রানির শিকার হওয়া। রাজস্ব আদায়কারীদের ‘সেবা’য় তারা হতাশ। খাল কেটে কুমির আনতে চান না তারা। কর্মকর্তাদের খুশি না করে করদাতা শনাক্তকরণ সংখ্যা (টিআইএন) পাওয়া যায় না বলে অভিযোগও রয়েছে। আশার কথা, আয়কর মেলায় এনবিআর কর্মীরা তুলনামূলকভাবে বেশি দায়িত্বপরায়ণ। আড়ালে-আবডালে নয়, করদাতারা বলেন, বছরের পুরো সময়ই এমন আচরণ প্রত্যাশা করেন তারা। করদাতাদের রাষ্ট্র যতই সম্মানিত করুক এবং ছাড় দিক, কর-আদায় পদ্ধতিতে গলদ থাকলে প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় সম্ভব নয়। বর্তমান আইনের কিছু বিধি করদাতাদের হয়রানির সুযোগ সৃষ্টি করে। কর ফাঁকিরও সুযোগ রয়েছে। এখন তাদের পক্ষ থেকেই প্রস্তাব এসেছে করদান পদ্ধতি সহজ করার। কর দিয়ে সাধারণ মানুষ বিপাকে না পড়লেই করদান পদ্ধতি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। তখন স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়েই কর দেবেন মানুষ।