শেয়ার বিজ ডেস্ক : কার্বন-নিরপেক্ষ বিশ্বকাপ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিল কাতারের সুপ্রিম কমিটি ফর ডেলিভারি অ্যান্ড লিগ্যাসি (এসসি)। প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ বা ফুটবল বিশ্বকাপের ২০২২ সালের আয়োজক দেশ কাতার প্রথম কার্বন-নিরপেক্ষ ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজন করেছে। ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ কাতার ২০২২-এর কৌশল হিসেবে আয়োজক দেশটি এ উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে বৈশ্বিক মান বজায় রাখা হয়েছে। ফলে পরিবেশবান্ধব ম্যাচ দেখা যাবে, যা বিশ্বে মডেল হিসেবে অনুসরণীয় হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপকৃত হবে। খবর: দ্য পেনিনসুলা কাতার।
কার্বন-নিরপেক্ষ ফুটবল খেলার অর্থÑযানবাহন থেকে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনা, জ্বালানিশক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়ার ফলে কার্বন নিঃসরণে ভারসাম্য অর্জন করা এবং বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত সমস্যার মধ্যে অন্যতম বাতাসে কার্বনের মাত্রা যেন বৃদ্ধি না পায়, তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন যেন পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ না হয়, তা নিশ্চিত করে কার্বন-নিরপেক্ষ খেলা উপহার দিতে চায় কাতার।
পরিবেশগত দিক বিবেচনায় কাতারের প্রধান লক্ষ্য কার্বন-নিরপেক্ষ সংস্করণ উপহার দেয়া। এজন্য দেশটি বিভিন্ন স্টেডিয়ামের ক্যাটেগরি, নকশা, নির্মাণ, শক্তি ও পানির ব্যবহারসহ বাতাসের মান বাড়াতে গ্যাস ও ধুলা নিঃসরণে সব স্টেডিয়ামে টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সব স্টেডিয়ামে বাতাস পরিমাপক স্টেশন স্থাপন।
এছাড়া যাতায়াতের জন্য পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাসের ব্যবস্থা করেছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। ইলেকট্রিক বাসগুলো ৪৪টি মেট্রোলিংক এবং ৪৮টি পাবলিক ট্রান্সপোর্ট রুটে চালানো হবে। আয়োজক কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, বিশ্বকাপের মাধ্যমে চালু হওয়া পরিবেশবান্ধব যানবাহনব্যবস্থায় কাতারের যাতায়াতব্যবস্থায় টেকসই হবে।
কার্বন-নিরপেক্ষ কৌশলের মধ্যে রয়েছে স্টেডিয়ামগুলো নির্মাণের সময় বর্জ্য বাছাই করার প্রক্রিয়া টেকসই করা। এ কারণে প্রায় ৮০ শতাংশ বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করা যায়, সেইসঙ্গে পানি সংরক্ষণ করা যায়। বর্জ্য ও কার্বন নির্গমন ব্যবস্থাপনা, সময়ে সময়ে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার, পরিবেশ সুরক্ষা ও শহুরে সংযোগ রয়েছে এ কৌশলের মধ্যে।
মধ্যপ্রাচ্য ও আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজক কাতার পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে এবং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনতে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ও সঠিক গবেষণার পর অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কার্বন নিঃসরণের ঝুঁকি কমাতে বেশ কয়েকটি কার্যকার কর্মসূচি ও পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন করেছে কাতার। এজন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলের ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে দেশটি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেশ ও দেশের বাইরের অনুমোদন ও সহায়তা পেয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কাতারের সুপ্রিম কমিটি ফর ডেলিভারি অ্যান্ড লিগ্যাসি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এজন্য ২০২০ সালে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সঙ্গে টেকসই সম্পদের ব্যবহার বাড়াতে চার্টার সনদে স্বাক্ষর করে কাতার। এতে পরিবেশগত মান বজায় রাখা উল্লেখ করা হয়।
কাতার বিশ্বকাপের খেলাগুলো হবে আটটি স্টেডিয়ামে। এসব স্টেডিয়াম টেকসই নকশা, নির্মাণশৈলী ও প্রাত্যহিক ব্যবস্থাপনার কারণে প্রশংসা অর্জন করেছে। এছাড়া গ্লোবাল সাসটেইনঅ্যাবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট সিস্টেমের (জিএসএএস) এবং গালফ অরগানাইজেশন ফর রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (জিওআরডি) সনদপত্র পেয়েছে। এসব সনদপত্রে নকশা, নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য যথাক্রমে পাঁচ ও চার তারকা পেয়েছে। একই সঙ্গে পরিচালনার জন্য গোল্ডেন সার্টিফিকেট পেয়েছে।
কাতারের টেকসই কৌশল এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে পরবর্তী বিশ্বকাপগুলো ও বড় ক্রীড়া আয়োজনে এভাবে আয়োজন করতে চায় আয়োজক কর্তৃপক্ষ। এটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং কাতার ন্যাশনাল
ভিশন-২০৩০ অনুসরণ করেছে।
এসসি কমিটির ইঞ্জিনিয়ার আবদুলরহমান আল মুফতাহ এক বিবৃতিতে বলেন, প্রধানত চারটি লক্ষ্য সামনে রেখে কাতার কার্বন-নিরপেক্ষ ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজন করেছে। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছেÑব্যক্তিগত ও মূল অংশীদারদের টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সচেতন করা, কার্বন নিঃসরণের কুফল সম্পর্কে জানানো, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং নিঃসরণ কমিয়ে আনার গুরুত্বপূর্ণ উৎস সম্পর্কে জানা।




