প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম :কুড়িগ্রামের নদ-নদীগুলোয় ভারতের উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেলেও তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলার পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমলেও ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে আর তিস্তা গত এক সপ্তাহ ধরে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি বইছে। পানি বৃদ্ধিতে চরাঞ্চলগুলোয় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি শৌচাগারগুলো পানিতে ডুবে থাকায় নারী ও কিশোরীরা সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় লোকজন নৌকায় করে যাতায়াত করছেন। গো-চারণভূমিগুলো তলিয়া যাওয়ায় গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এসব অঞ্চলের প্রায় ৫ হাজার পরিবার। সরকারিভাবে কেউ ত্রাণ পেলেও অধিকাংশই না পাওয়ার অভিযোগ করেন। বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দুপুর ১২টার দেয়া তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুন খাওয়া পয়েন্টে বেড়ে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে বেড়ে বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার, ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে কমে বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার, দুধকুমার পাটেশ্বরী পয়েন্টে কমে বিপৎসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে কমে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যাত্রাপুর কালির আলগার বাসিন্দা মানিক মিয়া বলেন, এই চরে এক সপ্তাহ ধরে মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে থাকায় নলকূপের পানি খাওয়া যাচ্ছে না। শৌচাগার ডুবে থাকায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। চারণ ভূমির অভাবে গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাতে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের পানি কিছুটা কমে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হবে এবং ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে কিছু নি¤œাঞ্চলগুলো প্লাবিত হতে পারে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, বন্যার জন্য বরাদ্দকৃত ৩৬২ মেট্রিক টন চাল, ৫ লাখ নগদ টাকা ও ৩ হাজার ৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার উপজেলাভিত্তিক চাহিদামতো বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সেসব বিতরণের কাজ চলমান এবং শিশুখাদ্য বাবদ ২ লাখ ও গো-খাদ্য ক্রয় বাবদ ৫ লাখ টাকা মজুত আছে। নতুন করে বরাদ্দের চাহিদা এখন পর্যন্ত প্রয়োজন নেই।




