কোকোয় উন্নতি আইভরি কোস্টের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: আইভরি কোস্টের অর্থনীতিতে ভূমিকা রয়েছে কোকোশিল্পের। জাতীয় কোকো ও চকলেট দিবস ঘিরে দেশটির এই খাতের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যেতে চায় দেশটি। চলতি সপ্তাহে এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চলতি বছর দিবসটির উপপাদ্য ছিলÑ‘স্থানীয় কোকো প্রক্রিয়াকরণ: চকলেট কারিগরদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ।’ খবর: আফ্রিকা নিউজ।

আইভরি কোস্টে প্রতি বছর ২০ লাখ টন কোকো উৎপন্ন হয়, যা বিশ্বের মোট ৪৫ শতাংশ কফির চাহিদা পূরণ করে। দেশটির ৪০ শতাংশ আয়ের উৎস এই খাত এবং দেশটির জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখে ১৫ শতাংশ। এই খাতে আরও কর্মসংস্থান চায় দেশটি, যাতে কৃষকরা আরও উপার্জন করতে পারেন।

আইভরি কোস্টের মেলা উদ্যাপন কমিটির চেয়ারম্যান সোনোরে কোনান কৌয়াসি বলেন, আমরা ছয় লাখ কোকো প্রক্রিয়াকরণের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছি। পণ্য এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়, যাতে ভোক্তারা উপকৃত হন।

চকলেট প্রস্তুতকারক সোনোরে ইয়েনূ ওলগা বলেন, কোকোর মূল্যবৃদ্ধি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আমাদের স্বল্পমেয়াদি প্রকল্প হচ্ছে, প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা বাড়ানো। বর্তমানে আমরা বাজারে ৫০০ টন পর্যন্ত পণ্য সরবরাহ করতে পারি। শিগগির এই হার চার থেকে ১০ গুণ বাড়াতে চাই। প্রসঙ্গত, টাফিসা ব্র্যান্ডের চকলেট বাজারজাত করে ওলগার প্রতিষ্ঠান।

চলতি বছর কৃষকদের বীজের জন্য পারিশ্রমিক বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ২০২২ সালের ১ দশমিক ২৪ ডলারের পরিবর্তে আগামী বছর থেকে তারা ১ দশমিক ৩৫ ডলার পারিশ্রমিক পাবেন। এই ঘোষণায় খুশি কৃষকরা। এ প্রসঙ্গে সোয়াদোগো মৌসা নামের একজন কৃষক বলেন, সরকারকে সাধুবাদ। তারা চেষ্টা করছেন। তবে তাদের বলতে চাই, এই ধারা যেন অব্যাহত থাকে। কেননা আমাদের আরও স্বায়ত্তশাসিত হওয়া দরকার।

চলতি বছর আইভরি কোস্টে কোকোর বাম্পার ফলন হয়েছে। অথচ বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কোকো আইভরি কোস্টের অনেক পরিবারের সদস্যদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও অর্ধেকের বেশি উৎপাদক দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে।

কোকো স্থানীয় অর্থনীতির একটি স্তম্ভ হলেও এবং বিশ্ববাজারে দেশটির প্রধান পণ্য হলেও এর উৎপত্তি নিয়ে এখনও দ্বন্দ্ব রয়ে গেছে। বিশেষ করে কোকোর উৎপত্তি নিয়ে দেশটিকে বেশ চাপ মোকাবিলা করতে হয় এবং নীতিবহির্ভূতভাবে উৎপন্ন হয় কি না, তা নিরীক্ষা করা হয়। একই সঙ্গে পণ্যের প্যাকেটের গায়ে উৎপাদকের তথ্য-সংবলিত কিউআর কোড দেয়া থাকে, যেখানে কৃষক ও তাদের জমির তথ্য দেয়া রয়েছে। পাশাপাশি ভিসা ব্যাংক চিপ রয়েছে, যা তাদের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করতে সহায়তা করে।

কফি অ্যান্ড কোকো কাউন্সিলের কৃষি উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক জেরেমি কৌয়াসি বলেন, আমরা পণ্যের অবস্থান নিশ্চিত করতে চাইÑঠিক কোন অঞ্চল থেকে কীভাবে কোন জাতের কোকো আসছে, তা চিহ্নিত ও জানতে চাই। এর অন্যতম উদ্দেশ্য, কোন উৎপাদক কোন পণ্য উৎপাদন করছেন এবং রপ্তানির আগে কে বা কারা প্রক্রিয়া করছে তা জানা। এতে আমরা সঠিক ও গুণগত পণ্য ভোক্তার কাছে পৌঁছে দিতে পারব এবং ব্যবসায় নীতি-নৈতিকতা মেনে চলতে পারব।

বৃহৎ অর্থে আইভরি কোস্টের অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনে কোকোর গুরুত্ব রয়েছে। তাই অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই শিল্পের গুরুত্ব বিবেচনা করে পূর্ণ সম্ভাবনাময় করে তোলার চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্বের শীর্ষ কোকো উৎপাদনকারী দেশ আইভরি কোস্ট। আফ্রিকার এই দেশটির প্রধান ফসল কোকো। জাতীয় আয়ের ৪০ শতাংশ জোগান দেয় কোকোশিল্প। স্থানীয় কৃষকরা কোকো উৎপাদনের পর তা সংগ্রহ করে মিলগুলোয় নিয়ে আসেন। সেখানে মিল মালিকরা কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি অপরিশোধিত কোকো কেনেন। মোট বৈশ্বিক উৎপাদনের ৬০ শতাংশ জোগান দেয় ঘানা ও আইভরি কোস্ট। এই কারণে আইভরি কোস্টে কোকোর দামে উত্থান-পতন আন্তর্জাতিক বাজারে চকলেটশিল্পে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। চলতি মৌসুমে মিলগেটে কোকোর দাম আগের মৌসুমের তুলনায় ৯ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে।