খরার প্রভাবে চা উৎপাদন কমেছে

প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চা নিলাম কেন্দ্রে ২০২৩-২৪ নিলাম বর্ষের চতুর্থ চা নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিলামে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৩০ দশমিক ৬০ কেজি চা পাতা নিলামে উঠে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৮২ হাজার ৬৫০ টাকা।

আজ বুধবার (৩১শে মে) শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্রের অস্থায়ী অফিস জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। শ্রীমঙ্গলের পাঁচটি ব্রোকারস হাউস ও চট্টগ্রামের সাতটি ব্রোকারস হাউস মিলিয়ে প্রায় ৫০ জন বায়ার নিলামে অংশগ্রহণ করেন। তবে আজ চতুর্থ নিলামে বায়ারদের সংখ্যা বেশী ছিল।

নিলামে মোমিন ছড়া চা বাগানের ব্ল্যাক টি কেজি প্রতি সর্বোচ্চ ২২৫ টাকা এবং কেদার পুরের ব্ল্যাক টি কেজি প্রতি সর্বোচ্চ ৩২৫ টাকা দামে নিলাম উঠে। তাছাড়া সাবারি টি প্ল্যান্টেশন এর গ্রীনটি প্রতি কেজি এক হাজার ১৮০ টাকা দামে নিলাম উঠেছে। এর আগে গত ২০২২-২৩ নিলাম বর্ষের তৃতীয় চা নিলামে ৭৪ হাজার ৩৮০ দশমিক ৪০ কেজি চা পাতা নিলামে উঠলেও বিক্রি হয় ২৪ হাজার ৭৯৭ দশমিক ৬০ কেজি, যার মূল্য ৫২ লাখ ৭৬ হাজার ৬৪৪ টাকা। গড় বিক্রয় মূল্য ছিল প্রতি কেজি ১৮৩ দশমিক ২৩ টাকা।

জালালাবাদ টি ব্রোকার্সের পরিচালক সৈকত আলী খান শেয়ার বিজকে জানান, ‘আজকের তৃতীয় চা নিলামে শ্রীমঙ্গলের ৫ টি এবং চট্টগ্রামের ৭ টি ব্রোকারস হাউজ অংশগ্রহণ করছে। নিলামে প্রায় ১ লাখ ৮৩ হাজারের উপরে চা অপারিং হয়।’

শ্রীমঙ্গল চা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি চেরাগ আলি শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আজ নিলামে ৬০ শতাংশ চা বিক্রি হয়েছে। দাম চট্টগ্রামের চেয়ে শ্রীমঙ্গলের একটু বেশী। কেজিতে চট্টগ্রাম থেকে ২০/২৫ টাকা বেশী।’

শ্রীমঙ্গল পদ্মা টি সাপ্লাই এর স্বত্বাধিকারী মেঘনাদ হাজরা শেয়ার বিজকে বলেন, ‘প্রচুর খরার কারণে চা উৎপাদন পরিমাণ বেশ কমে গেছে। যদিও কোয়ালিটি একটু খারাপ হয়েছে, কিন্তু দামটা একটু বেশী। কেজিতে ১৫/২০ টাকার মতো বেড়েছে। সেই হিসাবে চায়ের গুণগত মান তেমন ভালো না।’

এদিকে বাংলাদেশ চা বোর্ড সুত্রে জানা যায়, ‘২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্রে মোট ২৩টি চা নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে ১৮টি এবং আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে ৫টি নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। সপ্তাহের মাঝে শুধুমাত্র বুধবার ভিন্ন ভিন্ন তারিখে নিলামের মাধ্যমে চা ক্রয়বিক্রয় করা হবে।’