শেয়ার বিজ ডেস্ক: বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে পাঠিয়ে তাঁর সুচিকিৎসার দাবিতে আগামী ২০ নভেম্বর শনিবার ঢাকাসহ সারা দেশের জেলা ও মহানগরে গণ–অনশন কর্মসূচি পালন করবে দলটি।
বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
কর্মসূচি ঘোষণা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘২০ নভেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশে জেলা ও মহানগরে গণ-অনশন কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ঢাকায় কোথায় গণ–অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে, সেটি ভেন্যু পাওয়া সাপেক্ষে জানানো হবে। কোথাও ভেন্যু পাওয়া না গেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনশন হবে।
তিনি বলেন, ‘এভারকেয়ারের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন—তারা প্রাণপণ চেষ্টা করছেন খালেদা জিয়াকে সুস্থ করতে। কিন্তু উনার অসুখ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দেশের বাইরে চিকিৎসা করানো খুব জরুরি।’
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ। সরকার তাকে সাময়িকভাবে মুক্তি দিলেও তিনি স্বাধীন জীবনে ফিরতে পারেননি। শর্ত থাকায় তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারছেন না।
চিকিৎসকদের বরাতে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে খালেদা জিয়া ৫৩ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তখন তাকে পাঁচ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে, যা তার মতো একজন বয়স্ক মানুষের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।
খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার প্রসঙ্গে মির্জা ফথরুল বলেন, এখানে চিকিৎসা করে খালেদা জিয়াকে সুস্থ করা সম্ভব নয় বলে তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড বারবার জানিয়েছে। তারা তাকে বিদেশে উন্নত কোনো মেডিকেল সেন্টারে দ্রুত স্থানান্তরের কথা জানিয়েছে। মেডিকেল বোর্ড স্পষ্টভাবে বলেছে যে, খালেদা জিয়া এমন একটি অবস্থায় আছেন, তা এখন সমাধানযোগ্য। কিন্তু সময়োপযোগী চিকিৎসা দেওয়া না হলে তিনি যেকোনো মুহূর্তে ভিন্ন অবস্থায় যেতে পারেন। তখন আর কোনো চিকিৎসা কার্যকরের সুযোগ থাকবে না।
খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রীর সংসদে দেওয়া বক্তব্য সঠিক নয় দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আইনমন্ত্রী সংসদে বলেছেন ৪০১ ধারা অনুযায়ী সরকার যেকোনো দণ্ডিত ব্যক্তিকে শর্তযুক্ত করে বা শর্ত ছাড়া মুক্তি দিতে পারে। সরকার খালেদা জিয়াকে শর্তযুক্ত করে মুক্তি দিয়েছে। এরপরই বলা আছে, সরকার চাইলে যেকোনো শর্ত যুক্ত করতে পারে। অর্থাৎ এটি সম্পুর্ণভাবে সরকারের এখতিয়ার।
তিনি বলেন, বিদেশে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য নতুন করে আবেদন করা হয়েছে। অনুমতির বিষয়টি এখন সরকারের ওপর নির্ভর করছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান প্রমুখ।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। এরপর প্রথমে পুরান ঢাকার বিশেষ কারাগার ও পরে কারাবন্দি অবস্থায় বিএসএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।