Print Date & Time : 30 August 2025 Saturday 5:35 am

খেলাপি ঋণ ঠেকাতে তলবি ঋণ পরিশোধেও ছাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক:ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ঠেকাতে এবার মেয়াদি ঋণের পর তলবি ঋণেও ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মেয়াদি ঋণের মতো তলবি ঋণে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ কিস্তি পরিশোধ করলে খেলাপি না করার নির্দেশ দেয়া হয়। গতকাল বুধবার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বিদ্যমান নিয়মিত তলবি ঋণের বিপরীতে যে কিস্তি দিতে হবে, তার ৫০ শতাংশ পরিশোধ করলেই গ্রাহককে খেলাপি করা যাবে না। এই নির্দেশনা অনুযায়ী সুবিধা নেয়া গ্রাহকদের কিস্তির বাকি অংশ বিদ্যমান ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে আদায় করতে হবে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে এসব ঋণ যথানিয়মে খেলাপি করা যাবে।

গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক নিমিত মেয়াদি প্রকৃতির ঋণের (স্বল্পমেয়াদি কৃষি ও ক্ষুদ্রঋণসহ) বিপরীতে (এপ্রিল-জুন) সময়ের জন্য একই নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বহির্বিশ্বে যুদ্ধাবস্থা প্রলম্বিত হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালসহ বিভিন্ন উপকরণের মূল্য ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ঋণগ্রহীতারা তাদের গৃহীত ঋণের বিপরীতে প্রদেয় কিস্তির সম্পূর্ণ অংশ পরিশোধে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন, সেবা খাতসহ সব ব্যবসা চলমান রাখার মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা অনুসরণীয় হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলেছে, এই নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে এসব ঋণ যথানিয়মে খেলাপি করা যাবে। যেসব গ্রাহক এই সুবিধা নেবেন, তাদের কিস্তি পরিশোধের ক্ষেত্রে সুবিধাপ্রাপ্ত ঋণের ওপর ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কোনোরূপ দণ্ড সুদ বা অতিরিক্ত ফি (যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন) আরোপ করা যাবে না। আগে পুনঃতফসিলের মাধ্যমে খেলাপিমুক্ত হয়েছেন, এমন গ্রাহকরাও ঋণ পরিশোধের এই সুবিধা পাবেন।

ইসলামি শরিয়াভিত্তিক পরিচালিত ব্যাংকগুলো তাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একই নীতিমালা অনুসরণ করে সুবিধা দিতে পারবে। পাশাপাশি এই নীতিমালার আওতায় সুবিধাপ্রাপ্ত ঋণ/বিনিয়োগের বিপরীতে যে পরিমাণ আরোপিত সুদ/মুনাফা নগদে আদায় হবে, তা আয় খাতে স্থানান্তর করা যাবে।

এর আগে কভিড-১৯-এর প্রভাব শুরুর পর ২০২০ সালে ঋণ পরিশোধে বিশেষ ছাড় দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই বছর কোনো কিস্তি না দিলেও কেউ খেলাপি হয়নি। ২০২১ সালে যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করার কথা, ১৫ শতাংশ দিলে নিয়মিত ছিল। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর গত বছরের শেষ প্রান্তিকে একজনের যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করার কথা ৫০ শতাংশ দিলে খেলাপি হয়নি।

ব্যাংকাররা বলেন, এমন ছাড়ের কারণে ভালো গ্রাহকরাও ঋণ পরিশোধে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এতে ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে পড়ছে এবং নতুন ঋণ দেয়ার ক্ষমতা হারাচ্ছে। গত মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।