অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে শিল্প ও ব্যবসা বড় ভূমিকা রাখে। সে জন্য শিল্প ও ব্যবসাবন্ধব নীতি প্রণয়ন জরুরি। রাষ্ট্র বিভিন্নভাবে শিল্প ও ব্যবসায় প্রণোদনা দেয়, শিল্পপতি-ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সুযোগ-স্বীকৃতি দেয়। এতে তারা উৎসাহিত হন, এগিয়ে যায় অর্থনীতিও। এরই অংশ হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) করা হয় ব্যবসায়ীদের। আবার অল্প সময়ে ও কম খরচে ঝামেলাহীনভাবে আমদানি-রফতানি পণ্য খালাসে বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা দিতে অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) ব্যবস্থাও চালু রয়েছে। বর্তমানে ওষুধ খাতের তিন প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা পাচ্ছে।
দেশের সেরা প্রতিষ্ঠানগুলো এইও মর্যাদা পেয়ে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখছে এবং অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এ মর্যাদা অর্জনে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে বলেই ধারণা। এইও হতে বড় প্রভাবক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সুনাম। এ-জাতীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণ গ্রুপও থাকা উচিত। কিন্তু গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘ লক্ষ্য শুল্ক ফাঁকি: মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি করল প্রাণ’ শীর্ষক সংবাদ পাঠক তথা ভোক্তাদের হতাশ করবে।
খবরে জানা যায়, সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব কম দিতে এইচএস কোড জালিয়াতি করেছে প্রাণ গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান প্রাণ এক্সপোর্ট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির আমদানি করা পণ্যের সম্পূরক শুল্ক (এসডি) ১৫০ শতাংশ। কিন্তু এ শুল্ক ২০ শতাংশ হারে পরিশোধের লক্ষ্যে অন্য একটি পণ্যের এইচএস কোড ব্যবহার করেছে।
কর্মস্থলে নিহত কর্মীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া থেকে বিরত থাকার কৌশল ছাড়াও বিভিন্ন কারণে এর আগে গণমাধ্যমের খবর হয়েছে প্রাণ-আরএফএল। এ গ্রুপের রফতানি পণ্যে ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ ভাইরাস ও পোকামাকড়ের উপস্থিতি থাকায় কানাডা থেকে খাদ্যপণ্য ফেরত আসে। প্রাণের এগ্রো ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডের (এএমসিএল) ইতালিতে রফতানিকৃত খাদ্যপণ্যের চালানে রোডেন্ট এক্সট্রেমেন্টের (ইঁদুরের বিষ্ঠা) উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর তা জব্দ হয়। আবার মানহীন পণ্য বাজারজাত করায় প্রাণের কয়েকটি খাদ্যপণ্যের সিএম লাইসেন্স বাতিল করে বিএসটিআই। এছাড়া প্রাণের গুঁড়া হলুদে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে ২৩ গুণ মাত্রায় সিসা পাওয়ায় পণ্যটির সনদ বাতিল করে বিএসটিআই। এত সবের পরও দেশীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রাণের পণ্যে আস্থা রেখেছেন গ্রাহকরা। আমরা মনে করি, গ্রাহক আস্থার যথাযথ মর্যাদা দিতে সচেষ্ট নয় প্রতিষ্ঠানটি। প্রাণের মতো খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি করবে এটি কাম্য নয়। আমাদের বিশ্বাস, শুল্ক ফাঁকির এটি হবে শেষ দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যতে ব্যবসায়ের সুষ্ঠু নীতিমালা চর্চা করে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখবে প্রাণ, এটিই প্রত্যাশা।
