Print Date & Time : 26 April 2026 Sunday 9:58 pm

গরু ও ছাগলের শরীরে যক্ষ্মার জীবাণু শনাক্ত

তানিউল করিম জীম, বাকৃবি : শতকরা ৩ ভাগ গরু ও ১৫ ভাগ ছাগলের মাংসে যক্ষ্মার জীবাণু পাওয়া গেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবু হাদী নূর আলী খানের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্যটি।

খাদ্য তালিকায় জনপ্রিয়তা এবং একইসঙ্গে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ ও সুস্বাদুতার জন্য বাজারে যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে গরু ও ছাগলের মাংসে। কিন্তু সম্প্রতি বাজারে বিক্রয়কৃত গরু ও ছাগলের মাংসে য²ার জীবাণুর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

জানা যায়, সর্বপ্রথম ২০১৩ সালে শুরু হয় গবেষণা কার্যক্রম। বিআরসির সহায়তায় গবেষণাটি ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এরপর কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কেজিএফ) অধীনেও গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জীবন্ত গরুর ২ হাজার ৫০০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। একই সঙ্গে সংরক্ষিত উৎস থেকে পাঁচ শতাধিক নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়।

প্রাপ্ত নমুনায় গরু থেকে শতকরা ৩ ভাগ ও ছাগল থেকে শতকরা ১৫ ভাগ য²ার জীবাণুর উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। গরুর মাংসে য²ার জীবাণুটি হচ্ছে মাইকোব্যাক্টেরিয়াম বোভিস। এছাড়া ছাগলের মাংসে মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকুলোসিস, সিউডোটিউবারকুলোসিসসহ কয়েক ধরনের য²ার জীবাণু শনাক্ত করা হয়।

গবেষক অধ্যাপক ড. মো. আবু হাদী নূর আলী খান জানান, গরু ও ছাগলের মাংসে উপস্থিত য²ার জীবাণু মানুষের শরীরে আক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে চিড়িয়াখানা, কসাইখানা, ডেইরি ফার্মে কর্মরত ব্যক্তিদের সংক্রমণের ঝুঁকি রেশি রয়েছে। তবে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। মাংস সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রান্নার সময় সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শও দেন এই গবেষক।

জেলা সিভিল সার্জন নজরুল ইসলাম বলেন, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে সংশিষ্ট যারা, তাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ ছাড়া উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করা মাংসে তেমন কোনো ঝুঁকি থাকে না। তবে পশু জবাইয়ের আগে পশু চিকিৎসকের কাছে ছাড়পত্র নিলে তা সবচেয়ে ভালো হবে।