গাংনীতে কিশোরদের হাতে দ্রুতগামী মোটরসাইকেল

মজনুর রহমান আকাশ (গাংনী), মেহেরপুর: মেহেরপুরের গাংনীতে শিশু-কিশোরদের হাতে রয়েছে নামি-দামি ব্র্যান্ডের দ্রুতগামী মোটরসাইকেল। আর এসব যান নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শহর ও গ্রামাঞ্চলের রাস্তা। ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রাণহানি ঘটছে অনেকের। আবার কেউ কেউ পঙ্গু হচ্ছে চিরতরে। তার পরও থামানো যাচ্ছে না ওই সব কিশোরকে। ট্রাফিক পুলিশেরও কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না।

জানা গেছে, গাংনীর বিভিন্ন সড়ক মহাসড়কে শিশু ও কিশোররা দ্রুতবেগে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে। নামিদামি ব্র্যান্ডের এসব মোটরসাইকেলের কোনো রেজিস্ট্রেশন নেই। অন্যদিকে চালকদেরও নেই কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স। ফলে হরহামেশা দুর্ঘটনা ঘটছে। গাংনীর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন ক্লিনিকের তথ্যানুযায়ী গাংনীতে ৬ মাসে ৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দুইজনের মৃত্যু হয়। আহত ও চিরতরে পঙ্গুত্ব বহনকারীরা এখন সংসারের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বেশ কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, কিশোররা অন্যের দেখা দেখি মোটরসাইকেলের বায়না ধরে। কিনে না দিলে স্কুল-কলেজে যেতে চায় না। এমনকি আত্মহত্যারও হুমকি দেয়। ফলে বাধ্য হয়ে বাবা-মা তাদের আদরের ছেলেকে গাড়ি কিনে দেন। বিশেষ করে প্রবাসীর ছেলেরা মায়ের ওপর রাগ দেখিয়ে মোটরসাইকেল কিনে দিতে বাধ্য করে। ছেলের ভবিষ্যৎ ভেবে অভিভাবকরা ছেলের শখ পূরণ করেন। এতে হিতে বিপরীত হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন অভিভাবক জানান, তাদের সন্তানরা লেখাপড়ায় বেশ ভালো ছিল। মাস ছয়েক আগে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়ার সময় একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। গাড়ি কিনে না দিলে সমস্যা আছে বলে জানায়। এক রকম চাপাচাপিতে গাড়ি কিনে দেয়া হয়। এখন পড়াশোনা বাদ দিয়ে ওই ছেলেদের সঙ্গে রাত-দিন ঘোরাফেরা করে। গভীর রাতে রাড়ি ফেরে। দুপুর পর্যন্ত ঘুমায়। ভয়ে কিছু বলা সম্ভব হয় না। শিশু-কিশোররা এখন অনেকটা ভয়ঙ্কর।

স্থানীয় অনেকেই জানান, অপ্রাপ্ত বয়স্ক এসব ছেলে যেভাবে রাস্তায় গাড়ি চালায় তাতে পথচারীরা নিরাপদ নয়। আঁকাবাঁকা ও দ্রুত গাড়ি চালানোর কারণে রাস্তায় চলাচল কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার ওই সব মোটরসাইকেলে রেডিয়াম লাইট ও ইমার্জেন্সি হর্ন লাগিয়ে পথচারীদের বিব্রতকর পরিস্থিতে ফেলে। অনেকেই সাইরেন বাজিয়ে পথ চলে। এক মোটরসাইকেলে তিনজন চড়ে স্কুল-কলেজে আসে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষও কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করে না।

কেউ কেউ জানান, মোটর যান কেনার সময় ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখানো বাধ্যতামূলক ছিল। এখন আর সেটি দেখা যাচ্ছে না। রাস্তাঘাটে পুলিশও কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না। এছাড়া অল্প টাকা জমা দিয়ে কিস্তিতে মোটরসাইকেল পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কিশোররা এসব মোটরসাইকেল কিনছে আবার তা চড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রাস্তাঘাটে। এরা বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে থেকে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে কিংবা কোনো ঘটনা ঘটিয়ে সহজে পালিয়ে যায়।

মেহেরপুর ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর ফেরদৌস জানান, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন রোড ট্যাক্স, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। মামলাও দেয়া হচ্ছে সেটা কিশোর হোক না হয় বয়স্ক হোক। ইদানীং কিশোরদের হাতে দামি ব্র্যান্ডের দ্রুতগামী মোটরসাইকেল রয়েছে। তারা অভিভাবকদের ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করে মোটরসাইকেল কিনছে। একমাত্র অভিভাবকদের সচেতনতাই পারে কিশোরদের সুপথে ফেরাতে। সম্প্রতি বেশ কিছু মোটর যান আটক করা হয়েছে এবং ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।