গাবতলীতে বাসে যাত্রী নেই সদরঘাটে উপচেপড়া ভিড়

শেয়ার বিজ ডেস্ক: এবারের ঈদে লম্বা ছুটিতে বেশিরভাগ মানুষ আগেভাগে ঢাকা ছেড়েছেন। বাকিরা ধীরে ধীরে যাচ্ছেন। তাই গাবতলী বাস টার্মিনালে যাত্রীর জন্য অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বাসকর্মীদের। তবে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে ভিড় বাড়ছে। আর সদরঘাটে উপচেপড়া ভিড় ছিল। গতকাল সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।

গতকাল দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত গাবতলী টার্মিনাল এলাকায় ভিড় তেমন দেখা যায়নি। সেলফী পরিবহনের কর্মী বিপ্লব দাস বলেন, ‘ঈদের সময় এবার যাত্রী ডাইকা আনা লাগতাছে। অন্যবার গাড়ি টার্মিনালে লাগার লগে লগে ভইরা যায়। এইবার লোকজন যাইতাছে ধীরে-সুস্থে।’ আর পদ্মা দ্রুতগামী পরিবহনের বাসটি ছেড়ে ‘যাব যাব’ করছে, তখনও চালকের সহকারী যাত্রী টানার চেষ্টা করছেন।

মোটরসাইকেল নিয়ে সকালে নওগাঁ গেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী হাবিব-উল-আহসান। তিনি জানান, ভোরবেলায় বেরিয়ে তেমন যানজট পাননি। সাভার, নবীনগর ও বাইপাইলে অনেক পোশাককর্মী দাঁড়িয়েছিলেন বাসের জন্য। কিছু বাসও সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছিল, সে কারণে একটু যানজট ছিল। চন্দ্রা মোড়ও ফাঁকা ছিল। এরপর টাঙ্গাইলের রাস্তায় বাইক নিয়ে ৯টার মধ্যেই এলেঙ্গায় পৌঁছে যান। কিন্তু এরপরই শুরু হয় ভোগান্তি। অন্তত কয়েকশ বাইক সামনে তখন। প্রায় দুই ঘণ্টা লেগে যায় শুধু টোল দিয়ে সেতু পার হতে।

গাবতলী টার্মিনালে বরিশালগামী সূর্যমুখী পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার মো. সারওয়ার বললেন, রাস্তায় যানজট তুলনামূলকভাবে কম, গাড়ি সঠিক সময়ে এসে পৌঁছাচ্ছে। মাঝে মাঝে আধঘণ্টা দেরি হচ্ছে, তবে আমরা সঠিক সময়ে গাড়ি ছাড়তে পারছি। ঈদের তিন দিনের ছুটির আগে এবার মে দিবস আর শুক্র-শনি মিলিয়ে মোট ছয় দিনের ছুটি পেয়ে গেছে মানুষ। তাছাড়া ভোগান্তি এড়াতে অনেকে পরিবারের সদস্যদের আগেই বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। সে কারণে ছুটি শুরুর পর উপচেপড়া ভিড় আর হচ্ছে না বলে মনে করেন ঢাকা-মাদারীপুর রুটের সার্বিক পরিবহনের কাউন্টারম্যান মো. শওকত।

তিনি বলেন, ‘যে যার মতো সুবিধা অনুযায়ী বাড়ি যাচ্ছে। আগে অগ্রিম টিকিট বিক্রি হতো, এখন রেগুলার যাত্রীও তেমন নেই।’

সাকুরা পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার মো. মাইনুল জানান, ‘আমাদের বাসে কোনো শিডিউল সমস্যা হচ্ছে না। ফেরিঘাটে তেমন জ্যাম নেই। ঠিক সময়েই বাস আসছে।’ তবে শনিবার থেকে চাপ একটু বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

রাজধানীর মানিকনগরের বাস কাউন্টারগুলোয় দেখা গেছে যাত্রীদের ভিড়। ঢাকা থেকে নোয়াখালী ও লক্ষীপুরগামী বাস ইকোনো এক্সপ্রেস জনপ্রতি টিকিটের মূল্য ৬০০ ও ঢাকা এক্সপ্রেস ৭০০ টাকা নিচ্ছে। আর নোয়াখালীর সোনাপুরগামী বাস একুশে ও হিমাচল নিচ্ছে ৫৫০ টাকা করে।

গতকাল সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল। মূলত এ চাপ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয়। লঞ্চ টার্মিনালে সকাল থেকেই যাত্রীদের বেশ ভিড় লক্ষ করা গেছে। মাঝে একটু কমলেও দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এ ভিড় আবার বাড়তে শুরু করেছে। কেউ পরিবার নিয়ে আবার কেউবা একা যাচ্ছেন বাড়িতে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। সবার মধ্যে আপনালয়ে ফেরার তাড়ায় যেন বাড়তি উচ্ছাস কাজ করছে।

আর এদিকে কাক্সিক্ষত গন্তব্যে যাত্রীদের পৌঁছে দেয়ার জন্য সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সারি সারি লঞ্চ দাঁড়িয়ে রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাত্রীদের নিয়ে লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুরের পর থেকেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। যাত্রীদের লঞ্চে তোলার জন্য হাঁকডাক দিচ্ছেন কর্মচারীরা। যাত্রীরাও নিজ গন্তব্যের লঞ্চে দ্রæত উঠেছেন। মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে বিশাল বড় বড় লঞ্চ পরিপূর্ণ হয়ে উঠছে। যাত্রী বেশি থাকায় অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই অনেক লঞ্চ ঘাট ছেড়ে দিচ্ছে।

রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা মো. আনোয়ার পরিবার নিয়ে পটুয়াখালীতে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। তিনি জানান, এমভি এ আর খান লঞ্চের টিকিট পেয়েছি। তবে ঘাটে অনেক লোকের ভিড়। লঞ্চে ঠিকভাবে উঠতে পারলেই হয়। একা হলে সমস্যা ছিল না, পরিবার নিয়ে এত ভিড়ের মধ্যে লঞ্চে উঠতে অনেক কষ্ট।

এমডি পূবালী-১ লঞ্চে করে রাজধানীর বসিলার বাসিন্দা সোহেল রানা বরগুনায় গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন পরিবারের সঙ্গে ঈদ পালন করতে। তিনি বলেন, ঘাটে ভিড় এবং যাত্রী বেশি থাকলেও সময়মতো লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে। আর ভিড় ঠেলে লঞ্চে উঠতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।

অন্যদিকে যাত্রী বেশি হওয়ায় অনেকেই আবার লঞ্চে উঠতে পারেনি। তাই পরবর্তী লঞ্চের জন্য টার্মিনালে অপেক্ষা করছেন। পরিবার নিয়ে এই অপেক্ষাটা অনেকের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভোলার চরফ্যাশন অভিমুখী এমভি কর্ণফুলী-১২ লঞ্চের যাত্রী ছিলেম সজীব হোসেন। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে লঞ্চে উঠতে পারেননি। তিনি জানান, প্রচুর যাত্রীর চাপ ঘাটে। লঞ্চের টিকিট কেটেও উঠতে পারলাম না। এত মানুষের ভিড়ে কোনোভাবেই লঞ্চে উঠতে পারিনি। এখন পরবর্তী লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করছি। যাত্রীদের যে ভিড়, তাতে সন্ধ্যার দিকেও উঠতে পারব কি না সন্দেহ।

তবে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় থাকলেও পর্যাপ্ত সংখ্যক লঞ্চযাত্রার জন্য তৈরি হয়েছে বলে জানায় বিআইডবিøউটিএ কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে বিআইডবিøউটিএ যুগ্ম পরিচালক (বন্দর) আলমগীর কবির সাংবাদিকদের বলেন, ঈদযাত্রার জন্য ১৫০টিরও বেশি লঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। বিকালে ৫০টি লঞ্চ বিভিন্ন গন্তব্যে ঘাট ছেড়ে গেছে। আর ৭০টি লঞ্চ প্রস্তুত রয়েছে যাত্রীদের জন্য। যাত্রীদের জন্য কোনো লঞ্চ সংকট হবে না। এদিকে আগত যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘœ করার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নৌ-পুলিশ। সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে নৌ-পুলিশ। ?

এ বিষয়ে সদরঘাট নৌ-পুলিশ থানার ওসি কায়ুম আলী সরদার বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এছাড়া ঈদযাত্রায় জননিরাপত্তার কোনো ঘাটতি যাতে না থাকে, সেদিকেও আমাদের নজর রয়েছে। অপরাধীরা মানুষের ভিড় দেখে যেন কোনো ধরনের অপরাধ না করতে পারে, সেদিকে আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে।